বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে দীর্ঘ সময় জুড়ে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল মিশর। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩–২ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিশর। ১৪ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। প্রথমার্ধজুড়ে মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। তিনি লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও মেসির আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। ফলে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণাত্মক ছিল মিশর। ৫৮ মিনিটে জিকো বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তবে ৬৭ মিনিটে আর ভুল করেননি তিনি। মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে হাইসেম হাসানের নিচু ক্রস পেয়ে জিকো সহজ শটে ব্যবধান ২–০ করেন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরই যেন জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবারও মেসির দুর্দান্ত সৃষ্টিশীলতায় সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ২–০ থেকে ২–২ করে ম্যাচে নতুন জীবন পায় লিওনেল স্কালোনির দল।
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত সময়ে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মিশরের রক্ষণভাগ ভেঙে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। তার গোলেই ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, যা শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল হিসেবে থেকে যায়।
অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি একাই বদলে দেন ম্যাচের চিত্র। অন্যদিকে পরাজিত হলেও মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইরের অসাধারণ পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হয়ে থাকবে।