স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার সুনীল নারিন ছাড়া কলকাতা নাইটরাইডার্স কেকেআর অসম্পূর্ণ। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু জানেন কি, কত সম্পত্তির মালিক ক্যারিবিয়ান জাদুকর? মনোমালিন্যে ভেঙেছে প্রথম বিয়ে। ব্যক্তিগত জীবন কীরকম নারিনের? সেই ২০১২ সাল থেকে তিনি নাইটদের দিন-রাতের সঙ্গী। নিজে খুব একটা হাসেন না, প্রতিপক্ষকেও হাসার সুযোগ দেন না। ব্যাটে-বলে আজও অপ্রতিরোধ্য। নাইটদের তিনটে আইপিএল জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর। আইপিএলের সর্বকালের সেরা বিদেশি বললে কেকেআর ভক্তরা বোধহয় মেনেই নেবেন।
২০২৫ সালে নিলামের আগে কেকেআর নারিনকে ১২ কোটি টাকায় রিটেন করেছিল। এছাড়া বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেন। এখন কলকাতা ছাড়া নাইটদের দু'টি ফ্র্যাঞ্চাইজি- ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আবু ধাবি ও লস অ্যাঞ্জেলসে খেলেন। এর মধ্যে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বছরে তাঁর আয় ৭৭ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা। আবু ধাবিতে পান মাসে ১ কোটি টাকা। এছাড়া নাইক-সহ একাধিক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করেন। নিজস্ব ব্র্যান্ডও আছে। ---- সংবাদপ্রতিদিন
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, নারিনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩৫-১৪০ কোটি টাকা। জন্মস্থান ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। যেখানে জিম, ছোট ক্রিকেট পিচ ও সুইমিং পুল ছাড়াও অনেক সুবিধা রয়েছে। বাড়ির দামও আনুমানিক ১০-১২ কোটি টাকা। গাড়ির শখও রয়েছে নারিনের। আড়াই কোটি টাকার রেঞ্জ রোভার রয়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার একটি অডি ও নিসান কোম্পানির গাড়ি রয়েছে। আর আছে ৯০ লক্ষ টাকার একটি ফোর্ড মাসট্যাং।
২০১৩ সালে প্রথমবার বিয়ে হয় নারিনের। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী নন্দিতা কুমারের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ডিভোর্স। দু'জনের পথ আলাদা হয়ে যায়। তারপর নারিনের সঙ্গে অনেক মহিলার নাম জড়িয়েছে। কিন্তু সেগুলো ছিল ভুয়ো। শেষমেশ ২০২০-২১ সাল নাগাদ ফের মনের মানুষ খুঁজে পেলেন রহস্য স্পিনার। যাঁর নাম অ্যাঞ্জেলিয়া সুচিত। তাঁদের এক পুত্রসন্তানও আছে। যার নাম সাইলাস নারিন।
অ্যাঞ্জেলিয়া পেশায় ফ্যাশান ডিজাইনার। সুন্দরী, স্টাইলিস, আবেদনময়ী। কেকেআরের ম্যাচ থাকলে স্টেডিয়ামে দেখাও যায়। দেশবিদেশে ঘুরে বেড়ানো আর পার্টি করতে ভালোবাসেন। নারিনের সাফল্যের নেপথ্যে অন্যতম শক্তি অ্যাঞ্জেলিয়া।
লখনউয়ের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে ম্যাজিক দেখিয়েছেন নারিন। মাত্র তিনটি বলেই প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারকে আউট করেছেন তিনি। কেকেআর তাঁর কাছে পরিবারের মতো। তাই শেষ ওভারে ১৭ রান দেওয়া অনভিজ্ঞ কার্তিক ত্যাগীর পাশে দাঁড়িয়েছেন নারিন।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সুপার ওভারে মেডেন নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর নামে। ২০১৪ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিল ম্যাচে সুপার ওভারে মেডেন নেওয়ার কীর্তি গড়েন সুনীল নারিন। জেতার জন্য মাত্র ১২ দরকার ছিল আমাজন ওয়ারিয়র্সের। কিন্তু নারিনের বোলিং পরিসংখ্যান ০, ০, ০, ০, উইকেট, ০। ঘটনাচক্রে সেদিনও ক্রিজে ছিলেন নিকোলাস পুরান। তাঁকে পঞ্চম বলে সাজঘরে পাঠান ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। এবার আইপিএল ম্যাচেও নারিন বুঝিয়ে দিলেন সুপার ওভারে তিনিই আদি এবং অকৃত্রিম ম্যাচ উইনার।