টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কানাডা বাদ পড়ে গেছে গ্রুপ পর্বেই। তবে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোয় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। এরই মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
গ্রুপ পর্বে কানাডা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ম্যাচে লরেন্স বিষ্ণোই নামে ভারতের এক মাফিয়া গ্রুপ সরাসরি ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে কানাডিয়ান সংবাদ মাধ্যম সিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। কানাডা সরকার এই গ্যাংকে সহিংস সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বাজওয়ার এক খরুচে ওভারের কারণেই সন্দেহের তালিকায় আসেন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। স্পট ফিক্সিং সন্দেহে বাজওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ)। এমনকি তাঁর মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়েছে।
গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই গ্যাংটিই বাজওয়াকে হঠাৎ অধিনায়ক করার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বলে সিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে। সূত্রের বরাতে কানাডার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারিতে একটি রেস্টুরেন্টে ২৫ জন ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে দুজন ক্রিকেটার কানাডার জাতীয় দলের এক তারকার কাছে গিয়ে নিজেদের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
দিলপ্রীত বাজওয়া ও অন্য একজন তরুণ খেলোয়াড়কে পদোন্নতি না দিলে ওই খেলোয়াড় ও তার পরিবারকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে লরেঞ্জ বিষ্ণোই গ্যাং হুমকি দিয়েছিল। ‘নোয়া’ নামের আরেকজনকেও একই রকম হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে সিবিএসের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই চক্রটি নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসক ও খেলোয়াড়কে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করছে। অভিযোগের কেন্দ্রে আছেন বাজওয়া। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিতর্কিতভাবে তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। অভিযোগ আছে, তাকে দলে রাখা এবং পরে নেতৃত্বে বসাতে ভারতের গ্যাংটি নানাভাবে হুমকি দিয়েছিল।
ক্রিকেট কানাডার বর্তমান সভাপতি অরবিন্দ খোসার ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার যোগসূত্র রয়েছে বলে সিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খোসা সভাপতি হওয়ার আগেই বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবকারী দলের অংশ ছিলেন। তবে খোসা এই অভিযোগ অস্বীকার করে এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাবেক কানাডিয়ান কোচ খুররাম চৌহানকেও সাবেক সভাপতি আমজাদ বাজওয়া, সিইও সালমান খান এবং বোর্ড সদস্য রানা ইমরান ফিক্সিং করতে চাপ দিয়েছিলেন।