ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ; একইসঙ্গে এটি ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তনও। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচে আলো কেড়ে নিলেন কোহলি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরে ৩৮ বলে ৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দলকে এনে দিলেন দুর্দান্ত এক জয়। ম্যাচ শেষে কোহলি জানালেন, এই বিরতি তাকে 'তরতাজা, উচ্ছ্বসিত' এবং '১২০ শতাংশ প্রস্তুত' হয়ে ফিরতে সাহায্য করেছে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিরাট কোহলির সবশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ আইপিএলের ফাইনাল, যেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে। সেই শিরোপা রক্ষার মিশনের শুরুর ম্যাচে তারা ২০২ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৫.৪ ওভারে তাড়া করে জিতেছে। রান তাড়ায় কোহলি ৫টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, 'গত ১৫ বছরে যেভাবে সূচি ছিল এবং আমি যতটা ক্রিকেট খেলেছি, তাতে আমার জন্য অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির চেয়ে বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। তাই এই বিরতিগুলো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি সতেজ থাকি, রোমাঞ্চিত থাকি। যখনই খেলতে ফিরি, আমি ১২০% দিয়ে ফিরি—অপ্রস্তুত হয়ে না।'
তিনি আরও বলেন, 'অতিরিক্ত বিশ্রাম আমাকে মানসিকভাবে সতেজ করে। যতক্ষণ আপনি শারীরিকভাবে ফিট এবং মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত থাকেন, তখন এই দুটো একসাথে কাজ করে এবং আপনি দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি শুধু জায়গা ধরে রাখতে চান না, বরং ভালো পারফর্ম করে দলের জন্য কাজ করতে চান।'
জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডেতে কোহলি করেন যথাক্রমে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান। ওই সিরিজে তিনিই ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তার আগে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ৩০২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি সেঞ্চুরি।
হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে কোহলি ৫টি করে চার ও ছক্কা হাঁকান। ২০০'র বেশি রান তাড়া করতে নেমে ১৬তম ওভারে হার্শাল প্যাটেলকে একটি ছক্কা ও ৩টি চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। কোহলি বলেন, গত বছরের জুনের পর টি-টোয়েন্টি না খেললেও সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স তাকে একই ছন্দে থাকতে সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, 'আমি এমন কোনো শট খেলিনি, যা আমি সাধারণত খেলি না। তাই জানতাম, যদি আমার ছন্দ থাকে এবং ফিটনেসে যথেষ্ট কাজ করে থাকি, তাহলে সবকিছু ঠিকঠাকই হবে। আজকের ম্যাচটা ছিল ভালোভাবে শুরু করার আর সেটার ওপর ভিত্তি গড়ার আরেকটা সুযোগ।'
বেঙ্গালুরুর হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন দেবদূত পাড়িকালও। ২৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। এছাড়া অধিনায়ক রজত পাতিদার ১২ বলে ৩১ ও টিম ডেভিড ১০ বলে ১৬ রান করেন।
এর আগে ২৯ রানে ৩ উইকেট হারানো হায়দরাবাদ দুইশোর্ধ্ব রানের স্কোর গড়ে ইশান কিশানের ব্যাটে চড়ে। মাত্র ৩৮ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৮০ রান করেন কিশান। এছাড়া অনিকেত ভার্মা মাত্র ১৮ বলে ৪৩ ও হেনরিখ ক্লাসেন ২২ বলে ৩১ রান করেন। জ্যাকব ডাফি ও রোমারিও শেফার্ড ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
বেঙ্গালুরুর পরবর্তী ম্যাচ ১১ এপ্রিল নিজেদের মাঠে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে।