শিরোনাম
◈ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদল, কী প্রভাব ফেল‌তে পা‌রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে? ◈ শুক্রবার পা‌কিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের প্রথম টেস্ট, অলরাউন্ড পারফর‌মেন্স কর‌লে সি‌রিজ জেতা সম্ভব: নাজমুল হো‌সেন ◈ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ও এনসিপি বিরোধ চর‌মে ◈ বিশ্বকা‌পে অংশগ্রহণ নি‌য়ে ফিফাকে নতুন শর্ত দিলো ইরান ◈ দেশে হাম পরিস্থিতি অবনতির দিকে, একদিনে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার: ইসির নীতিগত সিদ্ধান্ত ◈ তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ মোদীর অনুরোধে অমিত শাহকে ‘বাঁচিয়েছিলেন’ শারদ পাওয়ার, পরে তাঁর দলই ভেঙে দেয় এই জুটি’ ◈ ভারতীয় ক্রিকেট বো‌র্ডের কথায় উঠ‌বস আইসিসির: সাইমন হার্মার ◈ অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা!

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২৬, ০৭:৪৫ বিকাল
আপডেট : ০৭ মে, ২০২৬, ১০:৪২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ও এনসিপি বিরোধ চর‌মে

ডেস্ক রি‌পোর্ট: আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়লেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে এই দুই দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিশেষ করে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ নিয়ে প্রার্থী ঘোষণা ও কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে জোটসঙ্গী দুই দল এখন কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে হাঁটছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে ঘিরেই এই বিরোধ সবচেয়ে স্পষ্ট। জামায়াতের ভেতরে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক সম্মেলনে তার নাম প্রস্তাব করা হলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 যদিও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা এটিকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না এবং জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে এনসিপি ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দলটির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে তারা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি আসিফ; মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। 

সম্প্রতি তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ঢাকার দক্ষিণে ময়লার বিল তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন, যা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই দুই প্রার্থীর সম্ভাব্য মুখোমুখি অবস্থান ঢাকার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং তরুণ নেতৃত্বের মধ্যকার এক প্রতীকী প্রতিযোগিতাও বটে। জামায়াত তরুণ ও জনপ্রিয় মুখ সামনে এনে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চায়, অন্যদিকে এনসিপিও নিজেদের ‘তরুণদের দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। অপরদিকে এনসিপি ইতোমধ্যেই তাদের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে দুই সিটিতেই দুই? দলের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় জোটগত সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১১ দলীয় জোটের ভেতরে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে।
এদিকে সাদিক কায়েমকে ঘিরে নতুন একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। 

সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা অনেকটাই নির্ভর করছে তার সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার সময়ের ওপর। 

জানা গেছে, ছাত্রশিবিরের আসন্ন সম্মেলনের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন এবং ডাকসুর মেয়াদও শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিতে পারেন। তখনই তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচনকে ঘিরে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। 

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে এবং জানিয়েছে, প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, প্রথম ধাপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, দলটির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে এবং জনপ্রিয় নেতাদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি উভয় দলই ইতোমধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে। 

এনসিপি নতুন নেতাদের দলে টানার পাশাপাশি বিভিন্ন সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। জামায়াতও ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করে তুলেছে এবং জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন শুধু স্থানীয় সরকার গঠনের বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক শক্তি যাচাইয়ের এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। 

জামায়াত ও এনসিপির এই নীরব দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় রূপ নেবে, নাকি তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই মাঠে নামবেÑতা এখনো অনিশ্চিত। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ঢাকার সিটি নির্বাচন ঘিরে যে প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। ---- সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়