মনিরুল ইসলাম: ১২ মে ভোটের দিন নির্ধারিত থাকলেও পদ্ধতিগত কারণে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা বাছাইয়ে বাদ না পড়লে এমপি হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির চার নারী প্রার্থী, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), আন্না মিনজ, মাধবী মারমা ও ফাহমিদা হক কে ‘বিশেষ চমক’ হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা।
তবে সুবর্ণা সিকদারকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে সুবর্ণা দাবি করেছেন, অনুমতি ছাড়াই আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং তিনি কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্য, ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের একজন এবং পেশায় শিক্ষক। যদিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।
অন্যদিকে আন্না মিনজ একজন খ্রিষ্টান ও ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে যুক্ত। একই সঙ্গে তিনি ‘ন্যাশনাল কোয়ালিশন অব ইনডিজেনাস পিপলস ইন বাংলাদেশ’-এর চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার মনোনয়নও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৫৫ বছর পর পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। তিনি বান্দরবান জেলা জজকোর্টের আইনজীবী এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।
ফাহমিদা হকের মনোনয়নও আলোচনায় এসেছে। তিনি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিল্লুর রহমানের স্ত্রী এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের বোর্ড সদস্য। দীর্ঘদিন ‘নিরপেক্ষ’ পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চার প্রার্থীর মনোনয়ন বিএনপির অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ইঙ্গিত বহন করছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কও তৈরি করেছে।