মনিরুল ইসলাম : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে তা দেশের মানুষ ৫ আগস্ট দেখেছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে আনতে হবে। মতপার্থক্য যেন মতবিরোধের পর্যায়ে না যায়।
তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে আসার পর সাভারসহ কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে। নতুন প্রজন্মের একটি আশা দেখতে চাইছে। ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান- এই সবগুলোকে সামনে রেখে আমরা যদি দেশের জন্য কাজ করি, দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো আমরা।
শনিবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি মনে করি, নারী-পুরুষ উভয়ের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। আমাদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য আছে, মতপার্থক্য থাকবে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সবাইকে বলি- আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা চালু রাখতে হবে। জবাবদিহিতার জায়গা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ২২ জানুয়রি থেকে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো। আপনাদের কাছ থেকে আলোচনা-সমালোচনা পাবো। যাতে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানের কাজে লাগতে পারে।
তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি দিকনির্দেশনা ও আশার খোঁজ করছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, সব প্রজন্মই একটি গাইডেন্স প্রত্যাশা করছে। যারা রাজনীতি করেন, তাদের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেন, তাহলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তারেক রহমান বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে- তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের গভীরভাবে ভাবা উচিত।
সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়। এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।’
দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষক আছেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁদের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’ চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা ২০ কোটি মানুষের খাবারের সংস্থান করছে, সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো ভেন্যু নেই। তাদের সমস্যাগুলো আমাদেরই জানতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন শফিক রেহমান, আবদুল হাই সিকদার, নুরুল কবির, মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান, আযম মীর, শাহিদুল আহসান, জহিরুল আলমসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম এ আজিজ, কাদের গণি চৌধুরী, হাসান হাফিজ, শহিদুল ইসলাম ও খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।