শিরোনাম
◈ ইরান যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প: আলজাজিরার বিশ্লেষণ ◈ আওয়ামী লী‌গের কার্যক্রমে নি‌ষেধাজ্ঞা আপাতত তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা সরকা‌রের নেই : মির্জা ফখরুল ◈ এবার ইসরাইলের প্রতি সহায়তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি ◈ ঈদের ছুটিতে পর্যটনে প্রাণচাঞ্চল্য ◈ শর্ত সাপেক্ষে পা‌কিস্তান সুপার লি‌গে খেলার এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-রিশাদরা ◈ শেষ দিনে ফাঁকা স্টেশন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে ট্রেন ◈ ২৭ মার্চ গুয়াতেমালার বিপক্ষে শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ খেল‌বে আর্জেন্টিনা ◈ শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনের দোষ পায়নি পুলিশ ◈ আজ সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর ◈ শুধু ট্রাম্পই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫১ দুপুর
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আমার কাছে ‘নাম ও কণ্ঠ রেকর্ড আছে’ : জামায়াতের নায়েবে আমীর

জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের  বলেছেন, সরকারের কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা নীলনকশার নির্বাচনের চেষ্টা করছে, তাদের নাম আছে, তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে। তারা মিটিংয়ে কী আলোচনা করেন তার খবরও আমাদের কাছে আছে। তিনি বলেন, আমরা সময় দিচ্ছি সংশোধন হওয়ার। সংশোধন না হলে তাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিবো। তিনি বলেন, জনগণ যদি জানে তারা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করছেন, তাহলে তাদের অবস্থা পতিত ফ্যাসিবাদের চেয়েও খারাপ হবে। নীলনকশার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ২০১৮ ও ’১৪-এর মতো নির্বাচন হলে জনগণ মেনে নেবে না। সূত্র: মানবজমিন

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের  বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। 

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামছুর রহমান, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ। 

ডা. তাহের বলেন, আমরা মনে করেছিলাম ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর আমাদের আর রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু একটি দল জুলাইকে দলীয় দৃষ্টিতে বিবেচনা করে এর চেতনাকে ধারণ করতে চায় না। তারা যেনতেনভাবে নির্বাচন চায়। প্রশাসনকে দলীয়করণ করতে চায়। এতে সরকারের কিছু উপদেষ্টাকে ব্যবহার করছে।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি ভালো মানুষ। অনেকে বলে আপনি সরল ও সোজা, প্যাঁচ বুঝেন না। আমরা বলবো- আপনার আশপাশের সবাই ভালো মানুষ নয়। আপনার খুব কাছের ২/৩ জন লোক আপনাকে বিভ্রান্ত ও ব্যবহার করছে। মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তাদের সরান। না হয় জনগণ সরিয়ে দিবে। 

জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, হাসিনা ১৬ বছর টিকে ছিল। আর এভাবে চললে আপনারা কয়েক মিনিটও টিকতে পারবেন না। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি দল মুখে সংস্কারের কথা বললেও ঐকমত্য কমিশনে প্যাঁচ লাগিয়ে দেয়। সংস্কারের দাবি না মানলে জনগণ রাজপথে নামবে।
গণভোটের সিদ্ধান্ত মানায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

তাহের বলেন, তারা বলে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একদিনে করতে হবে। কিন্তু আমরা মনে করি- এটা সম্ভব নয়। এক সঙ্গে দু’টি ভোট হলে বিভিন্ন সমস্যা হবে।  আবদুল্লাহ তাহের বলেন, বাংলাদেশে দু’টি গণভোট ২১ ও ১৭ দিনে হয়েছে। তাই গণভোট নভেম্বরের ১৫ তারিখে করা যায়। এটি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা যেতে পারে। অনেকে বলবেন- গণভোট হলে জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটা অনিশ্চিত। আমরাও ভিন্ন যুক্তি দিতে পারি। আমরা মনে করি- এটা টেস্ট হিসেবে দেখে তাদের সক্ষমতা যাচাই করা যেতে পারে।  

ডা. তাহের বলেন, দাবি আদায়ের জন্য যা যা দরকার আমরা করবো। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। আমরা বিএনপিকে বলবো আলোচনায় বসেন। এ সময় জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলন: এদিকে একই দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মানববন্ধন  করে ইসলামী আন্দোলন।  এ সময় শাপলা চত্বরে সমাবেশে  দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পিআর নিয়ে আলোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ অনেকেই সংবিধানের দোহাই দেন। জুলাই সনদের অনেক বিষয়ও তো সংবিধানে নাই। তাহলে কি জুলাই সনদের বাস্তবায়নও সংবিধানের দোহাই দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হবে? আতাউর রহমান বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে মৌলিক সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে হত্যা করা যাবে না। সংবিধানের দোহাই দিয়ে যেনতেন নির্বাচন জাতি মেনে নেবে না। বরং কাঙ্ক্ষিত মানের নির্বাচন হতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। এটা জনগণের দাবি, আন্দোলনরত দলগুলোর দাবি।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই জুলাই সনদের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে হবে। তা না হলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে, এমনকি জাতীয় নির্বাচনও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। একজন নির্বাচন কমিশনার একটি দলের মতো করে কথা বলছেন। এর আগেও পিআর নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটি দলের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। আমরা তারও নিন্দা জানাই। 

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাউয়ুম, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফি, এডভোকেট বরকতুল্লাহ লতিফ, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মুফতি মোস্তফা কামাল, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাকি, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরি, কে এম শরীয়াতুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: রাজধানীর  দৈনিক বাংলা মোড়, যাত্রাবাড়ী, আসাদগেট ও টেকনিক্যাল মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দৈনিক বাংলা মোড়ের মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা রাকীবুল ইসলাম, এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমদাদ বিন সায়েদুদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ এবং প্রধান আলোচক ছিলেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ। মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, জুলাই সনদ জাতির চেতনার প্রতীক। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ ন্যায়নীতি ও সমতার পথে অগ্রসর হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকারকে অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। 

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা): অভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আগামী ১৭ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে জুলাই সনদের সই অনুষ্ঠান হচ্ছে, কিন্তু এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতাই হবে না; সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষকে সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আদেশ জারি করতে হবে। সনদ বাস্তবায়নের পরে দেশের জনগণের মাঝে গণভোট আয়োজন করা হলে ওই সনদকে আইনগত বৈধতা দেয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘যদি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে বা একই সময়ে সনদের ওপর গণভোট নেয়া হয়, তবে নির্বাচনের গুরুত্বের ভেতরে সেই গণভোট গৌণ হয়ে যাবে। সে কারণে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরে দ্রুত বাস্তবায়ন-আদেশ জারি করে, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে আলাদা গণভোট আয়োজন করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়