শিরোনাম
◈ মাদকে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যে ভেজাল, বলেছেন সংসদে জামায়াতের নারী এমপি ◈ পাহাড়ধস ঝুঁকিতে থাকা পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করে বাড়ি নির্মাণ করবে সরকার ◈ প্রশাসনে বড় পদোন্নতি, যুগ্মসচিব হলেন ১৭৯ কর্মকর্তা ◈ ২০২৮ সালের মধ্যে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের শঙ্কা, বন্ধ হতে পারে শত শত শিল্পকারখানা ◈ গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ◈ খামেনির জানাজার শহরে মার্কিন হামলা ◈ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এলডিসি ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ◈ জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫ পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান, জানুন পুরস্কারজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় ◈ সংস্কার অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি হবে আরও স্থিতিশীল: এডিবি ◈ আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির সাধারণ কর্মী: শাহে আলম (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০২:২১ রাত
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০২:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিজ্ঞানচেতনা ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে ‘আস্তিকতা’, ‘নাস্তিকতা’ ও ‘অজ্ঞেয়বাদের’ পার্থক্য আছে

আজিজুর রহমান আসাদ

আজিজুর রহমান আসাদ: বিজ্ঞানচেতনা ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে ‘আস্তিকতা’, ‘নাস্তিকতা’ ও ‘অজ্ঞেয়বাদের’ পার্থক্য আছে। আস্তিকতা প্রধানত পারিবারিক বা সামাজিক ‘ধর্ম’ বিশ্বাস। যে পরিবারে বা সমাজে জন্মায়, সেই পরিবার বা সমাজের কাছ থেকে শৈশব থেকেই শেখে যে অতীন্দ্রিয় অলৌকিক পরমসত্তা আছে। সৃষ্টিকর্তা কোন শক্তি বা সত্তা আছে। এই অলৌকিক সত্ত্বায় বিশ্বাস, আস্তিকতা।  নাস্তিকতা ঠিক আস্তিকতার বিপরীত। বিশ্বাস বা ধারণা যে, কোনো অলৌকিক, অতীন্দ্রিয়, শক্তি বা সত্তা বলে কিছু নেই, এই ধারণা মানুষ নিজে তৈরি করেছে, যুগ যুগ ধরে তা বিবর্তিত হয়েছে এবং সুদূর অতীতের সর্বপ্রাণবাদ বা প্রকৃতিপূজা থেকে, বহুদেবতা এবং আধুনিককালে একেশ্বরবাদ এসেছে। সবটাই মানুষের কল্পনা। নাস্তিকতাও একটি ধারণা, যা আস্তিকতাকে ভুল বা অসত্য মনে করে। 

অজ্ঞেয়বাদ ধারণাটি মনে করে, মানুষ সবকিছু জানতে পারে না, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে। ঈশ্বর, আদিশক্তি, পরমসত্তা ইত্যাদি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের ব্যাপার, প্রমাণ যোগ্য জ্ঞানের নয়। ফলে এরা আস্তিক ও নাস্তিক দুই ধরনের অবস্থানের বিপক্ষে। বিজ্ঞানচেতনা বা বিজ্ঞানচিন্তা আগাম কোনো কিছু বলে দিতে নারাজ যে, কী আছে (আস্তিকতা), কী নেই (নাস্তিকতা), আর কী জানা সম্ভব নয় (অজ্ঞেয়বাদ)। বিজ্ঞানচিন্তা হয়তো অনুমান করে (হাইপোথেসিস), কিন্তু কোনো কিছু আছে বা নেইÑ এই ‘সত্য’ নির্ভর করে কেবল ‘যুক্তির’ উপর নয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা লব্ধ প্রমাণের উপর, যে প্রমাণ আবার সর্বজনীন (বিজ্ঞানের জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ আছে, অজ্ঞ, মূর্খ ও ধান্দাবাজদের। যেমন পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে পুঁজিবাদী ধান্দাবাজ বুদ্ধিজীবীদের প্রচুর ত্যানাপ্যাঁচানো কথাবার্তা আছে)। 

আপনি আস্তিক, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী হোন, আমার সমস্যা নেই। সমস্যা আপনার বিশ্বাসের কারণে সহিংস আচরণ, যা মূলত রাজনীতি। ধর্মের নামে সহিংসতা একটি রাজনীতি। যেমন, সাম্প্রদায়িক আত্মপরিচয়ের রাজনীতি, মৌলবাদী জঙ্গিবাদের রাজনীতি। ধর্ম দিয়ে এই রাজনীতি আড়াল করা একটি ফাঁদ। ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে আলাদা করে বুঝতে না শিখলে আপনিও এই ফাঁদে আটকে যাবেন। লেখক: গবেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়