শিরোনাম
◈ সৌদিতে কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা ◈ শ্রম আইন লঙ্ঘনের সাজাপ্রাপ্ত মামলায় স্থায়ী জামিন চাইবেন ড. ইউনূস ◈ ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ ◈ স্বাস্থ্যখাতে নতুন অশনি সংকেত অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ◈ কৃষি খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন  বছরে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ◈ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশ: এডিবি ◈ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বিজিপির ১৪ সদস্য ◈ সিলেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ◈ ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলার তালিকা প্রকাশ করুন: মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের ◈ পাল্টা হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি 

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০১:১৮ রাত
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০১:১৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বুদ্ধিজীবিতা যখন আমজনতার চাওয়ার বিপরীতে

কাকন রেজা 

কাকন রেজা: যারা পদক-টদক নিয়ে খুব চিন্তা করেন, না পেয়ে আফসোস করেন, তাদের সান্ত্বনা হলো শুভ্রদেব। প্রিন্স মাহমুদ তার লেভেলের না, এই কথা বলার পর এ বিষয়ে প্রতিটি খবরের নিচে আমজনতার মন্তব্য পড়লেই আপনাদের আফসোস কেটে যাবে। উল্টো পদক পাননি বলে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করবেন। আমি নিজেও শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ পদক বিষয়ে আমারও একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে অতিসম্প্রতি এবং আমার চিন্তা যে আমজনতার চিন্তার সাথে মিলে গেছে, এটাই বড় প্রাপ্তি, অর্জনও বলতে পারেন। যারা লেখেন, কিন্তু আমজনতা তাদের দুয়ো দেন, সে অবস্থায় এখন পর্যন্ত পড়তে হয়নি বলেও শুকরিয়া আদায় করছি। 

একজন বলেছিলেন, আমার গণমাধ্যমের প্রকাশিত লেখায় ‘হিট’ এর সংখ্যা নিয়ে। ‘হিট’ হলো কতজন লেখাটিকে দেখেছেন তা। যারা নিউজপোর্টালের অ্যাডমিন থাকেন, তারা এটা দেখতে পারেন। সেটা জেনেই একজন বলেছিলেন, তার লেখায় এত কম হিট কেন পড়ে সে ব্যাপারে। তিনি তো ভালো লেখেন অবশ্যই, তার লেখায় তথ্য উপাত্ত থাকে এটাও মিথ্যানয়। কিন্তু তার লেখায় যেটা থাকে না তাহলো আমজনতার চাওয়া-পাওয়া। তিনি লেখেন অ্যাস্টাব্লিশমেন্টের পক্ষে। তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশগুলোতে অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট এর জায়গা থেকে আমজনতার কথা চিন্তা করতে দেখা যায় কম। দুর্নীতি, টাকাপাচার, লুটপাট, অন্ধ ক্ষমতার মোহ এসবই এমন দেশগুলোর অ্যাস্টাব্লিশমেন্টের মূল চিন্তা। সঙ্গতই জনগণের চাওয়া-পাওয়ার বিপরীতে থেকে কাজ করে অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট। পক্ষে কাজ করলে গরিব দেশ আর গরিব থাকতো না। কাগুজে না সত্যিকার অর্থেই ধনে-মানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতো। যেভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ভিয়েতনাম সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। সেই লেখক কাগুজে অ্যাস্টাব্লিশমেন্টের পক্ষে লেখেন, যার ফলেই তার লেখায় ‘হিট’ কম। তারপক্ষে অবশ্য আমজনতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা কঠিন। কারণ তিনি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস-বাড়ি-গাড়ি ব্যবহার করেন। তার পক্ষে বস্তির মানুষের জীবনের যোগসূত্র স্থাপন সত্যিকার অর্থেই কঠিন কাজ। ঢাকা ক্লাব আর কড়াইল বস্তি এক ব্যাপার নয়। মরহুম অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত যেমন বলেছিলেন, পাঁচ টাকা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। তার কাছে পাঁচ টাকা কোনো ব্যাপার ছিলো না, কিন্তু সাধারণ মানুষের অনেক হিসেবের মধ্যেই পাঁচ টাকা প্রয়োজনীয় অঙ্ক। 

বিদ্যুৎ আর গ্যাসের দাম বাড়ানোর আলাপ উঠেছে। গ্যাসের চুলায় বাড়বে পাঁচশ টাকা। এই পাঁচশ টাকা বাড়তি সংস্থান কোথা থেকে হবে? রোজগার বেড়েছে কিংবা বেতন? মজুরি বেড়েছে কিংবা ব্যবসার লভ্যাংশ? বাড়েনি, উল্টো বেড়েছে ব্যাংকের সুদের হার। সুতরাং এই পাঁচশ টাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গায়ে হয়তো জ্বালা ধরাবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন বুকের নিচে আরেকটু বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির যন্ত্রণা বোঝার ক্ষমতা বড়সর কলাম লেখকদের নেই। তারা আছেন না-না তত্ত্ব নিয়ে। সাত-পাঁচে চৌদ্দ মেলাতে ব্যস্ত তারা। তারা দেখাতে চান, তাদের বেতন দুই লক্ষ টাকা, আর তার ড্রাইভারের বেতন পনেরো হাজার টাকা। দুই বেতন যোগ করলে দাঁড়ায়, দুই লক্ষ পনেরো হাজার টাকা। তাকে দুই দিয়ে ভাগ করলে, দুজনের আয় দাঁড়ায় এক লক্ষ সাড়ে সাত হাজার টাকা করে। সুতরাং ড্রাইভারের তো পাঁচশ টাকার বৃদ্ধি গায়ে লাগার কথা নয়। কী অদ্ভূত হিসাব! হ্যাঁ, এমনই চৌদ্দ মেলাতে ব্যস্ত তারা। তার জন্য জিডিপি নিয়ে তাদের এত কথা। তারা দেখাতে চেষ্টা করেন, জিডিপি বেড়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে, তারা ভালো আছে। আর বাস্তব ক্ষেত্রে পুরোটাই রিভার্স। আমজনতা তাদের কথার মারপ্যাঁচ ঠিকই বোঝে, তাই তারা তাদের লেখা পড়তে চায় না। পড়লে যাদের সাহস আছে তাদের কথা মন্তব্যে বলে যান। যেমন বলছেন, শুভ্রদেবের পুরস্কার প্রাপ্তি ও প্রিন্স মাহমুদের লেভেল আলোচনায়। সবারই যদি এমন সাহস থাকতো, তাহলে লেখার চেয়ে মন্তব্যের গুরুত্ব হতো অনেক বেশি।  

অথচ এর উল্টোটা হবার কথা ছিলো। যারা লিখেন, বুদ্ধিজীবী, তাদের বিদ্যা-বুদ্ধি মানুষের কাজে লাগালে তাই হতো। মানুষ তাদের মাথায় করে রাখতো। কিন্তু তারা উল্টো বুঝলেন। বেছে নিলেন নিরাপদ জীবন। আরাম-আয়েশ, বাড়ি-গাড়ি, টাকা-পয়সা, ক্ষেত্র বিশেষে নারীও। যারফলেই মানুষের কাছে ইউটিউবাররা হয়ে উঠলেন ভরসার জায়গা। মেইনস্ট্রিম জার্নালিজমের বিপরীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো সিটিজেন জার্নালিজম। গণমাধ্যমের চেয়ে সামাজিকমাধ্যম। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে আয়েশী লেখকদের নিজেদের লেখা বাধ্য হয়েই সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করতে হয়। উপায় নেই গোলাম হোসেন অবস্থা। করুণা ‘গোলাম হোসেনদের জন্য। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়