শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৫১ রাত
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৫১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গরুর মাংসের দাম নিয়ে বিতর্ক : ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ হবে কীভাবে?

রবিউল আলম

রবিউল আলম: গরুর মাংসের নিম্নমুখী দামের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। মাংসের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় ব্যবসায়ীরা সর্বশান্ত। ভোক্তারা মাংস খাওয়া থেকে বিরত। একের পর এক মাংসের দোকান বন্ধ হওয়ায় ৬০ লাখ গরু, মহিষ জবাই হতো, সেটা এখন ৩০/৩৫ লাখে এসে নেমেছে। কোরবানির গরু ২৪ লাখ ফেরত গেছে। ফার্মার এসোসিয়েশন ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে। জানি না এই হিসাবের বাস্তবতা কতোটুকু। সাধারণ কৃষক দানাদার খাদ্য পরিহার করে ন্যাচারাল খাদ্যে গরু-মহিষ লালনপালনে অভ্যস্ত হচ্ছে। ভারত-মিয়ানমার থেকে অবৈধ গরু পাচায় হয়ে আসছে। গরুর দাম কম হওয়ায় মাংস ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল আবিষ্কার করে নিয়েছে, মাংসের বিক্রি বাড়ানোর জন্য, ফেসবুকের সহায়তায়। লাইভে একের পর এক অফার নিয়ে হাজির। অমুক ভাইয়ের মাংসের দোকানে আসুন, ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকায় মাংস পাওয়া যায়। ক্রেতা বেসামাল, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর দামের নাগাল পাওয়ায় মাংস কেনার হিড়িক পড়েছে। গরুর ফার্মের মালিকরা পড়েছেন বিপাকে, গরুর দাম অতিরিক্ত কমে যাওয়ায়। 

ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে ভুল বুঝিয়ে তারা স্বার্থ আদায় করেছিলো, রমজান উপলক্ষে ন্যায্যমূল্যে মাংস ৬৫০ টাকা বিক্রি করে। ৩০ হাজার কেজি মাংস বিক্রির জন্য দুই কোটি তিরিশ লাখ টাকা ভর্তুকি আদায় করেছে সরকার থেকে। এবার ভোক্তা অধিকারের সরহায়তার মাধ্যমে মাংসের মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজনীর ব্যবস্থা করেছেন মনে হয়। যেভাবে মাংস ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে মাংসের দাম কমানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, সেখানে ভোক্তা অধিকারের মূল্য নির্ধারণের অতিরিক্ত আগ্রহ সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। দাম নির্ধারণের বৈধতা ভোক্তা অধিকারের আছে কি? নির্ধারণ হলে সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি? নাকি আলু, পেঁয়াজ,  ডিমের দামের মতো শুভঙ্করের ফাঁকি হতে পারে। যদি তাই হয়, তবে মাংসের নিম্নমুখী দামে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। কারণ এই মুহূর্তে ৬০০ টাকার নীচে মাংসের দাম নির্ধারণ সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে অনেক দোকানে ৫৫০/৫৮০ টাকায় মাংস বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার ৬০০ টাকায় মাংস বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছে। আমি সন্দিহান, ভোক্তা অধিকার কার অধিকার রক্ষা করছে? মাংস ব্যবসায়ীরা মূল্য নির্ধারণের বিরুদ্ধে নয়, ইতোপূর্বে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর মাংসের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে, মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সহায়তায়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে। স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে। ২০১৮ সাল প্রযন্ত ৩২০ টাকায় মূল্য নির্ধারণ হয়েছিলো।

২০১৯ সালে মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে মূল্য নির্ধারণী সভা বাতিল করা হলো। একলাফে মাংসের দাম ৫০০ টাকা, ২০২০ সালে ৬০০ টাকা, ২০২১ সালে ৬৫০ টাকা, ২৯২২ সালে ৭০০ টাকা, ২০২৩ সালে ৮০০ টাকা। এই অস্বাভাবিক মাংসের দাম বৃদ্ধির জন্য কাকে দায়ী করবেন? ভোক্তা অধিকার। আমি বিশ্বাস করি, ভোক্তা অধিকার অনেক ভালো ভালো কাজ করেছে, ভেজালবিরোধী অভিযানে। কিছু খারাপ কাজও হয়েছে নিজেদের অজান্তে। ১০ কেজি আলু বিক্রেতাকে জরিমানার আওতায় এনে মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে জবাবদিহিতার জন্যে। মাংসের মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না। মাংসের দাম কমানোর জন্য করণীয় সম্পর্কে ভোক্তা অধিকারকে অভিহিত হতে হবে। [১] চামড়া শিল্প ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সচল [২] মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বাড়ি একটি খামার এবং সাধারণ কৃষককে ন্যাচারাল খাদ্যে পশুপালনে উৎসাহিত করা। [৩] প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি বৃহৎ চরকে পশুর প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিনা পয়সায় উন্নত জাতের গরু মহিষের বাচ্চা বিতরণ করা। [৪] গরুর হাটের ইজারাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। আইনের সমঅধিকার বাস্তবায়ন এবং পশুপালনে, পশুজাত পণ্যের রপ্তানির জন্য একটি মন্ত্রণালয়ের অধিনে অন্তর্ভুক্ত করা। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলে এই লেখাটি অসম্পূর্ণ থাকবে। সম্পূর্ন করার জন্য বৃহত আলোচনার প্রয়োজন। 
প্রতি বছর মাংস ও পশুর জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পশুপালনে দুইশ কোটি টাকা ঋণের মাধ্যমে পাচার প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধনের মাধ্যমে ১০টি চরকে পশুপালনের আওতায় আনতে পারলে ১৪৬ দেশে মাংস ও পশুর বর্জ্য রপ্তানির মাধ্যমে  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবো। গার্মেন্টস এক নম্বর রপ্তানির খাত হয়েছে আমদানির উপর নির্ভর করে। গরুর মাংস ও পশুজাত পণ্য সম্পূর্ণ কৃষি, রপ্তানির দ্বিতীয় অবস্থানে। এই খাত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এক নম্বর অবস্থানে আসতে বেশি সময় লাগবে না। অজ্ঞাত ভোক্তা অধিকারের অনধিকার চর্চার জন্য দেশ ও জাতির সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। যার যে কাজ তাদের করতে দিন। অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করুন, মাংসের মূল্য নির্ধারণ করে ভোক্তার অধিকারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। বিলাশী গরুর ফার্মের দানাদার খাদ্যে পশুপালন ব্যয়বহুল, কোরবানির চাহিদা পূরণে সক্ষম হলেও মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। সাধারণ ক্রেতার কাছে মাংস সুস্বাদু নয়। সাধারণ কৃষকের ন্যাচারাল খাদ্যে গরু মহিষের মাংসের চাহিদা, বাংলাদেশ পেরিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে। ফার্মার এসোসিয়েশনের পরামর্শ থেকে সাবধান। লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়