শিরোনাম
◈ শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা  বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ সরকার আলোচনার কোনো পরিস্থিতি রাখেনি, কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ঘোষণা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ◈ বিটিভিতে হামলা-আগুন, সম্প্রচার বন্ধ ◈ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ◈ আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয়: ডিবিপ্রধান ◈ নরসিংদীতে গুলিতে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত শতাধিক ◈ চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২ ◈ নেত্রকোনায় ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আহত অর্ধশত, ৭ আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ ◈ শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায় সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে বিএনপি-জামাত আগুন-সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে: ওবায়দুল কাদের   

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৩, ১২:০৮ রাত
আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০২৩, ১২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রচণ্ড সাহস ও পরোয়াহীন জীবনের প্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবেন

মঞ্জুরে খোদা টরিক

মঞ্জুরে খোদা টরিক: ১৯৮৮ সালে একটা মামলার কারণে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আত্মগোপনে ছিলাম। সে বছরই শামীম সিকদারের করা টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। জগন্নাথ হল ও শামসুন্নাহার হলের কোনায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য করা নতুন বহুতল ভবনের ওখানে একটা পুরনো লাল ইটের বাড়িতে শামীম শিকদার থাকতেন। তাঁর সেই বাড়ির সামনেই একটা বড় ভাস্কর্য ছিলো। তার মধ্যে রঙিন লাইট-পানির ব্যবস্থাও ছিল। সেখানে অনেক গাছপাল-জঙ্গলের মতো ছিল, পরিবেশটা কিছুটা ভূতরে ছিল। সেখানে উনাকে মাঝেমধ্যে হাটাহাটি, কাজ করতে দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলাসহ বিভিন্ন স্থানে উনাকে দেখেছি কিছু কথাও হয়েছে। 

ভাস্কর অনেকেই আছে, ভাস্কর্যও অনেক আছে। কিন্তু উনাকে মনে করার কারণ উনি সাধারণ বা গড়ের মানুষে ছিলেন না। তার জীবনযাপন, কথাবার্তা, চলাফেরা ছিল অন্যরকম। বুক পকেটে সিগারেট রাখা, সেখান থেকে সিগারেট বেড় করে প্রকাশ্যে ধূমপান করা, সবসময় জিন্স, প্যান্ট টি-শার্ট, বোতাম ছাড়া শার্ট, জ্যাকেট পরা, সাইকেল চালানো, নানা ধরণের জিনিস ব্যবহার ইত্যাদি। 

আমরা যে মেয়েদের-নারীদের দেখে অভ্যস্ত উনি তার ধারেকাছেও ছিলেন না। কিন্তু তার এই পোশাক-চলাফেরার কারণে সমালোচিত হয়েছেন হয়তো কিন্তু কখনো হুমকি পেয়েছেন, তার জীবনযাপন থমকে গেছে তেমনটা শুনিনি। আর তিনি পরোয়া করা, মাথানত করার মানুষও ছিলেন না। উনার ভাস্কর্যের অনেক সমালোচনা শুনেছি। কিন্তু একজন নারী হিসেবে তিনি যে সময় এই কাজগুলো করেছেন এখন আর সে রকম কাউকে দেখি না বা শুনিনা। তার মানে তার সাহসী কর্ম ও পরোয়াহীন জীবনযাপনকে অনুসরণ করার মতো নারী আর দেখা যায়না, দেশে সেই পরিবেশ-বাস্তবতা নেই। উনাকে নিয়ে অনেক মিথ প্রচলিত ছিলো। বড়ভাই কমরেড সিরাজ শিকদারকে হত্যা করার পর তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। শুনেছি, তিনি স্বশস্ত্রও হয়েছিলেন, আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। আহমদ ছফার ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ প্রকাশ হবার পর উনাকে নিয়ে ভিন্নমাত্রার মিথ তৈরি হয়। উনার জীবনযাপন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর মিথ ছিল।  

শামীম সিকদারের মৃত্যু একটা সাহসÑস্পর্দ্ধার ইতি হয়তো। আমাদের সমাজ তাঁদের ধারণ করার উপযোগী হতে পারেননি। আজ থেকে ৪-৫ দশক আগে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ভাস্কর হিসেবে তিনি যে জীবনযাপন করেছেন, যেভাবে চলাফেরা করেছেন এখন সেই বাস্তবতা নেই। তার মানে সমাজ আরো পিছিয়েছে। যে দেশে একটি পাথরের মূর্তি-ভাস্কর্যও নিরাপদ নয় সেখানে মানুষ নিরাপদ হয় কী করে? শামীম সিকদার আর নেই, তিনি হয়তো পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে মিথ হয়েই থাকবেন। প্রচলিত সমাজের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সাহস ও পরোয়াহীন জীবনের প্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবেন। লেখক ও গবেষক

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়