শিরোনাম
◈ নারী প্রশ্ন, ভোটার মাইগ্রেশন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনি রাজনীতিতে উত্তাপ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতির পর কড়া ব্যবস্থা, সরাসরি বুকিং ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, বিএনপিপন্থী চার নেতা বদলি ◈ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না কারও ◈ অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান ◈ তুরস্ক ভিসা এখন ঢাকায়: কোথায়, কখন, কত ফি—সব তথ্য এক নজরে ◈ জুলাই সনদে গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংস্কার, ‘না’ জিতলে কী হবে? ◈ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোংলা বন্দরে এলো ৫৭ হাজার টন গম ◈ মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা  ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ৩ দিন আগে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার ◈ রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১২ রাত
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন কেউ দেশে থাকতে চান না?

ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী, ছোট পর্দা, বড় পর্দার অনেক অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী সুযোগ পেলেই বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে অধিকাংশই বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। অথবা টাকা থাকলে দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে ইনভেসরমেন্ট ক্যাটেগরিতে গিয়ে স্থায়ী হচ্ছেন। 

একটি দেশে যখন অন্যায়, দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা বাড়ে তখন শিল্পী, সাহিত্যিক ও উচ্চ শিক্ষিতরাই প্রতিবাদ জানায়। এদের চলে যাওয়ার ফলে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দুর্বল হচ্ছে, দেশের সাহিত্যাঙ্গন দুর্বল হচ্ছে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণার মান দুর্বল হচ্ছে। কেন এই শ্রেণীর মানুষেরা চলে যাচ্ছে? এর মূল কারণ দেশে ভালো মানের শিক্ষা ব্যবস্থা নাই, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই, সুষ্ঠূ ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা নাই তাহলে থাকবে কেন? কিন্তু তবুও থাকার দরকার ছিল। এরা থেকে সেইসব ব্যবস্থার জন্য ফাইট করতে পারতো। ভীরুর মত পালিয়ে যাচ্ছে সব। যাদেরকে এক সময় বড় শিল্পী, বড় অভিনেতা ভাবতাম তারা সব বিদেশে। বিদেশে গিয়ে কি করছে? খুবই মামুলি চাকুরী করছে। এখানে তারকা খ্যাতি, অর্থ সব কিছু থাকা সত্বেও ওখানে ওই ছোট চাকুরীকেই শ্রেয় মনে করছে। আসল কথা হলো একটা সুশৃঙ্খল জীবন চায় সবাই। সবাই চায় তাদের সন্তান লেখাপড়ার একটা ভালো পরিবেশ পাক।  
গত দুইদিন ধরে সংবাদপত্রে ইডেন কলেজ অনেক কিছুই জানলাম। জানতে পারলাম ইডেন কলেজের ছাত্রনেত্রীরা আবাসিক হলের ৯০টি রুম তাদের দখলে। সেখানকার রুম ভাড়া দিয়ে মাসে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আসে। এখন বুঝতে পারছেন হলে হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এত হট্টগোল কেন। সব টাকা। এখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বলে ছাত্রলীগ এই কাজ করছে। আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ঠিক একই কাজ হতো। পুরো সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা সকল সুনীতি বিসর্জন দিয়ে যা কিছু করলে ক্ষমতায় থাকা যাবে করে যাচ্ছে। ছাত্রদের তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। বিনিময়ে ক্ষুদকুড়া ছেটাচ্ছে। ছাত্ররা হলো নিচের লেয়ারে।

যত উপরে যাবেন টাকার পরিমান ততই বেশি। এমনি এমনি কি আর ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের খরচ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি? এই দেশ পচে গলে গিয়েছে একদম। সেই জন্যই কেউ দেশে থাকতে চায় না। দেশে যারা পরে আছে সেটা কেবল সুযোগের অভাবে। লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়