শিরোনাম
◈ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ধরবে এআই, নজরে থাকবে অবস্থানও ◈ শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তারেক রহমান ◈ বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ◈ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১১ , ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ◈ ৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস ◈ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারে আরও দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে সরকার ◈ কানাডায় কঠোর অভিবাসন নীতি, ফেরত পাঠানোর তালিকায় ৯৬৮ বাংলাদেশি ◈ জুলাই জাদুঘরের ভাস্কর্য অপসারণে হেফাজতের দাবি, তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ◈ তারেক রহমানকে দিল্লির আমন্ত্রণ: কূটনৈতিক সৌজন্য, নাকি অন্য কোনো সমীকরণ

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১২ রাত
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন কেউ দেশে থাকতে চান না?

ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী, ছোট পর্দা, বড় পর্দার অনেক অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী সুযোগ পেলেই বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে অধিকাংশই বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। অথবা টাকা থাকলে দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে ইনভেসরমেন্ট ক্যাটেগরিতে গিয়ে স্থায়ী হচ্ছেন। 

একটি দেশে যখন অন্যায়, দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা বাড়ে তখন শিল্পী, সাহিত্যিক ও উচ্চ শিক্ষিতরাই প্রতিবাদ জানায়। এদের চলে যাওয়ার ফলে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দুর্বল হচ্ছে, দেশের সাহিত্যাঙ্গন দুর্বল হচ্ছে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণার মান দুর্বল হচ্ছে। কেন এই শ্রেণীর মানুষেরা চলে যাচ্ছে? এর মূল কারণ দেশে ভালো মানের শিক্ষা ব্যবস্থা নাই, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই, সুষ্ঠূ ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা নাই তাহলে থাকবে কেন? কিন্তু তবুও থাকার দরকার ছিল। এরা থেকে সেইসব ব্যবস্থার জন্য ফাইট করতে পারতো। ভীরুর মত পালিয়ে যাচ্ছে সব। যাদেরকে এক সময় বড় শিল্পী, বড় অভিনেতা ভাবতাম তারা সব বিদেশে। বিদেশে গিয়ে কি করছে? খুবই মামুলি চাকুরী করছে। এখানে তারকা খ্যাতি, অর্থ সব কিছু থাকা সত্বেও ওখানে ওই ছোট চাকুরীকেই শ্রেয় মনে করছে। আসল কথা হলো একটা সুশৃঙ্খল জীবন চায় সবাই। সবাই চায় তাদের সন্তান লেখাপড়ার একটা ভালো পরিবেশ পাক।  
গত দুইদিন ধরে সংবাদপত্রে ইডেন কলেজ অনেক কিছুই জানলাম। জানতে পারলাম ইডেন কলেজের ছাত্রনেত্রীরা আবাসিক হলের ৯০টি রুম তাদের দখলে। সেখানকার রুম ভাড়া দিয়ে মাসে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আসে। এখন বুঝতে পারছেন হলে হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এত হট্টগোল কেন। সব টাকা। এখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বলে ছাত্রলীগ এই কাজ করছে। আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ঠিক একই কাজ হতো। পুরো সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা সকল সুনীতি বিসর্জন দিয়ে যা কিছু করলে ক্ষমতায় থাকা যাবে করে যাচ্ছে। ছাত্রদের তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। বিনিময়ে ক্ষুদকুড়া ছেটাচ্ছে। ছাত্ররা হলো নিচের লেয়ারে।

যত উপরে যাবেন টাকার পরিমান ততই বেশি। এমনি এমনি কি আর ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের খরচ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি? এই দেশ পচে গলে গিয়েছে একদম। সেই জন্যই কেউ দেশে থাকতে চায় না। দেশে যারা পরে আছে সেটা কেবল সুযোগের অভাবে। লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়