শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:২১ রাত
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অমৃতের কন্যা, বাঙালির দীপ শেখ হাসিনা

অজয় দাশগুপ্ত

অজয় দাশগুপ্ত: কোনো মানুষের জীবনে এতো আঘাত আর বেদনা থাকলে তার অবস্থা কী হয় তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবে এক জীবনজয়ী নারী। জীবনজয়ী বলতে কী বুঝি আমরা? মূলত দুঃখ-কষ্ট, বেদনাকে জয় করে যিনি  আজীবন উদযাপন করেন তিনি ই জীবনজয়ী। একবার ভাবুনÑ সাধারণ মানুষের জীবনে বেদনা শোক বা প্রিয়জন হারানো ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি কতটা সহনীয় করে রাখেন। রাকেন বলেই মানুষের মা-বাবা ভাই হারানোর আলাদা আলাদা দিন থাকে। থাকে আলাদা সময়। শেখ হাসিনার বেলায় তা ঘটেনি। বিদেশে থাদেকাকালীন সময়ে তিনি একরাতে তাঁর পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর প্রিয় মাতা যুবক দুই ভাই  আর শিশু ছোট ভাইটিকেও তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন। বলতে গেলে একটি মাত্র বোন ছাড়া তাঁর পুরো পরিবার উধাও হয়ে গিয়েছিল একরাতে। এমন কষ্ট এতো বেদনা সহ্য করা অস্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু তিনি এই শোক শক্তিতে পরিণত করে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষ তার আত্মবিশ্বাস আর মনের জোরে এমন কিছু করতে পারে যা ভাবা ও কঠিন।

এখানেই ঘটনা শেষ নয়। একজীবনে শেখ হাসিনাকে বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। অলৌকিকতারও একটা সীমা থাকে। রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্যে দিবালোকে সরকারের মদদে গ্রেনেড হামলায় অতি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা ফিনিক্স পাখির মতো। বারবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরে দাঁড়িয়ে আজ তিনি একক ও দেশের সাথে অভিন্ন উচ্চারণে উচ্চারিত এক নাম। এখন আমরা এটা চোখ বন্ধ করেই বলতে পারি শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ ভাবাও যায় না। এই না ভাবার কারণ একাধিক। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়ন আর অগ্রগতির এক দৃষ্টান্ত। যে যত কথা বলুক আর সুশীলেরা যতো গালমন্দ করুক না কেন তারা নিজেরাও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বেনিফিশিয়ারি। এমন কেউ কি আছেন যিনি শেখ হাসিনার বাংলাদেশের উন্নতি উন্নয়ন ভোগ করছেন না? সমালোচনা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। রাজনীতিতে সমালোচনা থাকবেই। বরং মনে করা হয় সমালোচনা না থাকলেই পথ হারায় সরকার। সে দৃষ্টিকোণে শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা হতে পারে, নিন্দাও হতে পারে বৈকি। কিন্তু খেয়াল করবেন, উদ্দেশ্যহীন মতলববাজ সমালোচক নামের নিন্দুকেরা এসবের ধার ধারেন না। তাদের টার্গেট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি ভালো মন্দ যাই করুক এরা আদাজল খেয়ে তাঁর পেছনে লেগে আছে।

এদের জনগণ চেনে। শেখ হাসিনাকে যারা  চেনেন তারা জানেন স্তাবকতা বা সমালোচনা দুটিই তাঁর গা সওয়া। এগুলো গায়ে মাখেন না বলেই কথায় কথায় সত্য বলেন তিনি। কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে সত্য বলার সাহস সবার থাকে না। শেখ হাসিনার আছে। কারণ তিনি যা করেন তা বুঝে শুনেই করেন। একসময় ছাত্র মৈত্রীর নেতা রাজশাহীর ফজলে হোসেন বাদশা এখন এমপি। সরকারি দলের সাথে জোটে থাকলেও বাদশা ভাই আওয়ামী লীগ করেন না। সে বাদশা ভাই আমার কাছে গল্প করেছিলেন সংসদে যখন জামায়াত নেতারা বিএনপির সাথে মিলে তাঁকে কটূক্তি করতো তিনি কিছুই বলতেন না। এমনকি ফাঁসিতে ঝুলে যাওয়া মুসলিম লীগার পরিবারের সাকা চৌধুরী সংসদ গরম করে ফেলতেন আবোল তাবোল কথা বলে। সাকা চৌধুরীর অশ্রাব্য কথার পরও মাথা নীচু করে ডায়েরীতে কী সব লিখে যেতেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাদশা ভাই বলছিলেন, তিনি দু’একবার প্রশ্ন করেছিলেন তাঁকে। উত্তর না দিয়ে হেসে এড়িয়ে যেতেন শেখ হাসিনা। এরা সবাই ফাঁসিতে ঝোলার পর ফজলে হোসেন বাদশা বুঝে গিয়েছিলেন কী লিখতেন শেখ হাসিনা আর কত দৃঢ় তাঁর মনোবল।

আমাদের জীবনে আমরা বাংলাদেশের বহু রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। লৌহমানব সামরিক শাসক একনায়ক এসব ও শুনেছি দেখেছি। কিন্তু দিনশেষে এরা তাসের ঘকরের মত উড়ে গেছে। উড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ তাদের পা মাটিতে ছিল না। শেখ হাসিনার পা সবসময় মাটিতে। শেখ হাসিনার সবচাইতে বড় গুণ তিনি দেশের মানুষের মনের ভাষা বোঝেন। কতটা বোঝেন তার একটা গল্প বলি। গেলবার শেখ হাসিনা যখন সিডনি সফরে এসেছিলেন সুযোগ হয়েছিল খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখার। তাঁর কথা শোনার। গল্পচ্ছলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে এমন সব নারীদের নাম ও ঘটনা বলছিলেন, যাদের কথা মনে রাখার কোনো কারণ নাই তাঁর। কিন্তু নাম ঠিকানাসহ সবকিছু মুখস্ত তাঁর। দলের নেতাকর্মীদের  নাম ও তাঁর কণ্ঠস্থ। এটাই শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন না এমন মানুষের সংখ্যা কমকিছু না। কিন্তু খেয়াল করবেন তেমন এক শ্রেণির লোকেরাই তাঁর ঘোরবিরোধী যারা পাকিস্তান ভাঙ্গা মানতে পারেননি। যাদের আপনি বাইরে থেকে প্রগতিশীল বলে ভুল করবেন যারা পোশাকে খাবারে আধুনিক যাদের এক পা দেশে এক পা বাইরে এরাই মূলত: তাঁকে অপছন্দ করে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসে। ভালোবাসে বলেই তিনি টিকে আছেন। আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি তারা প্রতিনিয়ত একটা বিষয় দেখি এবং বুঝতে পারি বিদেশে পালিয়ে থাকা কিংবা অঘটন করে চলে আসা বেঈমানগুলোই হাসিনা বিরোধী। আপনি যদি এদের সাথে যৌক্তিক কথা বলেন,  এরা তা মানবে না। তাদের রাগ বা হতাশার কারণ জিজ্ঞেস করলেও উত্তর পাবেন না। কারণ এগুলো বিষয় না। বিষয় যেকোনো ভাবে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা। আমরা বুঝি এই রাগের কারণগুলো কী কী। একসময় এসব নিয়ে লেখা বা কথা হলেও এখন আর কেউ এগুলো পাত্তা দেয় না। সবাই জানে শেখ হাসিনার বিরোধীরা মতলববাজ। যতটা তারা সমালোচক ততোটাই নিন্দুক। এদের কথা শুনে কোনোদিন লাভ হয়নি। দেশের কোনো কল্যাণ হয়নি।

শেখ হাসিনা কী কী করেছেন বা কী তাঁর কৃতিত্ব সে বিচার করার ধৃষ্টতা আমার নাই। এর জন্য মহাকাল তো বটেইÑ সময়ও  দাঁড়িয়ে আছে। নিজস্ব  বলয় ভেঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। একসময় আমাদের তলাহীন ঝুড়ি বলা দেশের নেতারা এখন বাংলাদেশ বললে দু’বার ফিরে তাকান। উপমহাদেশে এমন একটি দেশও নাই যারা বাংলাদেশকে সমীহ করে না। নারী শক্তির প্রতীক নারী শক্তির বিজয় নিশ্চিত করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন সেটা পাকিস্তানের চাইতে ভালো কেউ জানে না। আমাদের কথিত বুদ্ধিজীবীরা যাই বলুক না কেন, পাকিস্তানি এবং পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা  একবাক্যে স্বীকার করেন, দুই দেশের পার্থক্যের বড় কারণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরা তাদের দেশের সরকারকে বলেন, আমাদের আর কিছু পারো না পারো বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। এই আহাজারী বা এই কামনা ই বলে দেয় শেখ হাসিনা কতবড় নেত্রী।

বিষয়টা এখন এমন তাঁর হয়ে কধা বললেই মনে করে স্বার্থ আছে লোকটার। এটা ভুল। স্বার্থ তোষামোদী স্তাবকতা ছিল আছে থাকবে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে দেশের মাথার ওপর শেখ হাসিনার মতো নেতা থাকে তার আর যাই হোক ভয় থাকে না। ভেবে দেখুন তো, পাঁচজন বাঙালিকে এক রাখা যায়? একটা গ্রামকে একছকে বেঁধে রাখতে পারবেন? পারবেন না। অথচ এই এক নারী কী এক যাদুবলে দেশ ও জাতিকে ধরে রেখেছেন। বেঁধে রেখেছেন এক বন্ধনে। শত বিরোধিতা বা সমালোচনার ওপরে বিরাজমানা শেখ হাসিনার শতায়ু কামনা করি। তাঁর দীর্ঘ জীবন  ও কর্মে ই বেঁচে থাক আমাদের স্বদেশভূমি। লেখক ও কলামিস্ট। সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

  • সর্বশেষ