শিরোনাম
◈ 'ফ্রি ইমরান খান’ ‌লেখা টি-শার্ট প‌রে মাঠে ঢুকতে বাধা, সিদ্ধান্ত পাল্টালো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ◈ ৪০ দিনের ছুটি শেষ, রোববার খুলছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ আজ বসছে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক ◈ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান টানাপোড়েন: সমঝোতার পথ সংকীর্ণ, বাড়ছে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ আশঙ্কা ◈ এপ্রিলে ৩ দেশ সফর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান: দ্য প্রিন্টের খবর ◈ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর কতটুকু কার্যকর? ◈ ব্যাংক ঋণে ব্যবসা করা হালাল হবে কিনা, এ নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ◈ শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা পাওয়া নিয়ে স্বস্তির খবর, যা জানালেন মাউশি ◈ ফিফা র‍্যাঙ্কিং- আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অবনতি, বাংলা‌দেশ ১৮২ নম্ব‌রে ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: শর্ত নিয়ে প্রশ্ন, পর্যালোচনায় সরকার

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৭ বিকাল
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

“সড়কে আর কত লাশ ঝরলে জাগবে রাষ্ট্র?” : একটি নীরব গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

শাহাজাদা এমরান : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি আমাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় “বাড়ি ফেরা”, তবে প্রশ্নটা খুবই কঠিন হয়ে যায়—এই স্বাধীনতা কি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আমরা কি সত্যিই একটি সভ্য, দায়বদ্ধ রাষ্ট্রে বাস করছি, নাকি প্রতিদিনের অনিয়ন্ত্রিত মৃত্যুকে মেনে নেওয়ার এক অদৃশ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে গেছি?

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর—আনন্দের উৎসব, মিলনের দিন। অথচ সেই আনন্দই রূপ নিয়েছে শোকের মিছিলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো কুমিল্লার সড়ক ও মহাসড়কও হয়ে উঠেছে মৃত্যুপুরী। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ২০টি প্রাণ ঝরে গেছে। এই সংখ্যা কোনো পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি পৃথিবীর পতন।

এবারের ঈদের ছুটিতে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট প্রাণহানি প্রায় ৪৪৩। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়াবাজার বিশ্বরোডের রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে এক মা ও তার দুই মেয়েসহ ১২ জনের মৃত্যু—এ যেন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একটি পরিবার একসাথে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া—এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন, যাদের অনেকেই হয়তো আজীবন এই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াবেন।

এরপরও কি থেমেছে মৃত্যু? না। লাকসাম, বুড়িচং—একটির পর একটি দুর্ঘটনা যেন আমাদের বিবেককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ মহান স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষপূর্তির দিনগত সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়ায় একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু—এ যেন শোকের ধারাবাহিকতা। একজন প্রখ্যাত আলেম, তার স্ত্রী, দুই সন্তান—একসাথে নিভে গেল একটি পরিবার, একটি আলো।

প্রশ্ন হচ্ছে—এই মৃত্যুগুলোর দায় কার? কেবল কি চালকের? নাকি একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থার, যেখানে নিয়ম আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই, আইন আছে কিন্তু জবাবদিহিতা নেই?

আমরা কি কখনো দেখেছি কোনো বড় দুর্ঘটনার পর প্রকৃত তদন্তের ফলাফল? দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি? নাকি কিছুদিনের শোরগোলের পর সবকিছু আবার আগের মতোই চলতে থাকে?

সড়ক নিরাপত্তা আজ আর কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক সংকট, একটি জাতীয় লজ্জা। প্রতিটি মৃত্যু আমাদের ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করে। অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ক্লান্ত চালক, অরক্ষিত রেলক্রসিং—সবই আমরা জানি। তবুও কেন এই মৃত্যু থামে না?

আমরা কি শুধুই শোক প্রকাশ করবো, নাকি পরিবর্তনের দাবি তুলবো?

একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব তার নাগরিকের জীবন রক্ষা করা। সেই জায়গায় বারবার ব্যর্থতা মানে কেবল অব্যবস্থাপনা নয়—এটি এক ধরনের নীরব সহিংসতা। যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর খবরে অভ্যস্ত হয়ে যায়, আর রাষ্ট্র অভ্যস্ত হয়ে যায় দায় এড়িয়ে যেতে।

আমরা কি এভাবেই সড়কে মরতে থাকবো? আমরা কি বিচার পাবো না? এই প্রশ্নগুলো আজ শুধু আবেগ নয়—এটি ন্যায়বিচারের দাবি।

সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্তের। সময় এসেছে জবাবদিহিতার। প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃশ্যমান শাস্তি, রেলক্রসিংয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের নিশ্চয়তা—এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি।

আমরা আর কত প্রাণ হারালে এই রাষ্ট্র জাগ্রত হবে?

স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি খুব বেশি নয়—আমরা শুধু নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চাই। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। আমরা চাই না আমাদের প্রিয়জনের নাম কোনো পরিসংখ্যানে হারিয়ে যাক।

আর কত? এই প্রশ্নের উত্তর এখন রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

লেখক:
সম্পাদক, দৈনিক কুমিল্লার জমিন
সাধারণ সম্পাদক, নাগরিক অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা
মোবাইল: ০১৭১১-৩৮৮৩০৮

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়