শিরোনাম
◈ ১৫৬ উপজেলায় ভোট আজ ◈ সংসদ সদস্য আজিমের অবস্থান জেনেছে ভারত পুলিশ ◈ বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারে কী করছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ‘শেষ’ ভিডিও ◈ সৈয়দপুর বিমানবন্দরের রানওয়েতে ফাটল, প্লেন চলাচলে বিঘ্ন ◈ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও হামাস প্রধানের বিরুদ্ধে আইসিসিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন ◈ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ায় দুই ওসিকে প্রত্যাহার করলো ইসি  ◈ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোক ◈ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ◈ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ প্রতি বছর এপ্রিলের গরম ৪০ ডিগ্রি ছাড়াবে, বলছে রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৪, ০৪:৫৯ সকাল
আপডেট : ১৫ মে, ২০২৪, ০৪:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অল্পস্বল্প জীবনপাঠ : কবিতা মানুষের কি কাজে লাগে?

মঈন চৌধুরী

মঈন চৌধুরী: পৃথিবীতে এমন কোন ঘটনা ঘটে না, যা মানুষের জন্য ভাল বা খারাপ কিছু নিয়ে না আসে। আমি দার্শনিক হ্বিটগেন্সটাইনের দর্শন গ্রাহ্য করে বলবো, কবিতার সৃষ্টিও একটা  ঘটনা, আর এই ঘটনা মানুষের জন্য ভালই আনে, খারাপ করে না। এই পৃথিবীতে  মানুষের জ্ঞান কাঠামোর অংশ  হয়ে যতদিন নন্দনতত্ত্ব  থাকবে ততদিন কবিতা থাকবে। তবে কবি ও কবিতার কোন কাজ নেই, এ ধারণাটা ঐতিহাসিক। দার্শনিক প্লাটো কবিদের রাষ্ট্রের বাইরে রাখতে বলেছেন, ধর্ম কবিতা রচনাকে নাজায়েজ বলেছে আর আমাদের দেশেও কবিদের ভাবা হয় কাজকর্মহীন বেকার সত্তা হিসেবে। এর কারণ হল, আমাদের আশেপাশের বেশীরভাগ মানুষ অবস্থান করে দার্শনিক  হাইডেগার কথিত উধংসধহ  বা পতিত সত্তায়, কবিতা বোঝার মত স্তরে তারা নেই। কবিতা মানুষের কাজে লাগানোর জন্য নান্দনিক মনের অধিকারী পাঠক চাই। তাই আমি কবিতার সাথে পাঠকের সম্পর্ক নিয়েও কিছু আলোচনা করবো। ভাষাতত্ত্ববিদ জোনাথান কলার এর কাব্যতত্ত্ব টেনে এনে বলবো যে পাঠকের সাহিত্য বোঝার ক্ষমতা ও তার প্রয়োগের (Literary Competence and Literary Performance) এর উপর নির্ভর করে কবিতার গ্রহণযোগ্যতা। পাঠকের যদি যোগ্যতা না থাকে কিংবা পাঠক যদি তৈরি না হয়, তবে কবিতা দিয়ে কোন কাজ হয় না, এ কথা বলে লাভ নেই। এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলা যায়, কথাটি হল কবিতার ভাষা নিয়ে। আমরা দেখতে পাচ্ছি কবিতায় বারবার প্রেম, প্রনয়, ভালবাসা, প্রিয়া, দুঃখ, বিচ্ছেদ ইত্যাদির মতো ক্লিশে শব্দ বা অনুভুতি ফিরে আসে। এরকম শব্দ বা অনুভুতি আসবেই, কিন্তু আধুনিক কবিতায় তা নিত্য নতুন শব্দের অনুষঙ্গ ও চিত্রকল্প নিয়ে আসা উচিত। কবিতার কবি ও পাঠক যদি বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, পুরান, ইতিহাস আর সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞ হন, তবে কবি, কবিতা আর পাঠকের মাঝে এক ধরণের বিচ্ছেদ কাজ করে।   
এখানে উল্লেখ্য যে কোন কারুকবি যদি তার কবিতাকে বিভিন্ন অযৌক্তিক কারুকাজে  দুর্বোধ্য করে তোলেন, তবে সেই কবিকেও ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। সৃষ্টিশীল নান্দনিক কবিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মৌলিক সত্তার অন্তর থেকে উঠে আসে, আর তাই সে কবিতা অসম্ভব কঠিন কিছু হওয়ার কথা নয়। এ প্রসঙ্গে আমি টি এস এলিয়টের মতামত তুলে ধরবো। তিনি বলেছেন Poetry,excellent words in excellent arrangement and excellent metre. That is what is called the technique of verse,a poem in some sense, has its own life; the feeling, or emotions or vision, resulting from the poem is something different from the feeling, or emotions or vision in the mind of poet। এলিয়টের কথার সাথে তাল মিলিয়ে আমি বলব, যে কবিতা  Excellent words, excellent arrangement, excellent metre সহ লেখা হয়েছে তা কবিতা পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না কেন, কেন তা কাজের কবিতা হবে না? আমি যখন দেখি আমার কবিতার লাইন যতোবারই হত্যা কর, জন্মাবো আবার মিছিলের শ্লোগান হয়ে গেছে, তখন ভাবি কবিতার কাজ আছে। যখন, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী  গদ্যময়, পূর্নিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি, ভাত দে হারামজাদা নয়তো মানচিত্র খাবো, পাখির নীড়ের মত চোখ, যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, গাঙের ঢেউয়ের মতো বল কন্যা কবুল কবুল, আগামেনন নিহত পিতা কবরে শায়িত আজ, এই সব লাইনের মত অজস্র কবিতাংশ চেতনার অংশ হয়ে আমাদের প্রেম, প্রণয় আর দ্রোহ সম্পর্কে  উদ্দীপনার যোগান দিচ্ছে, তখন আমাকে বলতেই হবে কবিতার কাজ আছে। ফেসবুক থেকে 

 
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়