শিরোনাম
◈ পশুরহাটে ইউটিউবার ও টিকটকারের উৎপাতে অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতারা  ◈ বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের সবচেয়ে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে: বিএফইউজে-ডিইউজে ◈ রাঙামাটিতে বজ্রপাতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু ◈ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি বিশ্বের ৯৩টি দেশের সমর্থন  ◈ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন আরও ৫ জন ◈ প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ছুটে এলো খরগোশের দল ◈ সেন্টমার্টিন ইস্যুতে সরকারের নীরবতা দাসসুলভ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ: মির্জা ফখরুল ◈ এবার বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল  ◈ বৃক্ষ নিধন করাই বিএনপি’র চরিত্র: প্রধানমন্ত্রী ◈ হাজীদের লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:৩১ রাত
আপডেট : ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সামন্ততন্ত্র থেকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ও কমরেড লেনিন

আহসান হাবিব

আহসান হাবিব: [১] আমাদের দেশের অনেককে বলতে শুনি মার্ক্সবাদ এখনো প্রাসঙ্গিক। এমনকি যারা বামপন্থি রাজনীতি করেন কিংবা বুদ্ধিজীবী তারাও তাদের বক্তব্যে এই ‘প্রাসঙ্গিক’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। কথাটা কতটা হাস্যকর ভাবা যায় না। সমাজবিকাশের ধারা এবং তার গতিমুখ সম্পর্কে কতটা বকলম হলে এমন শব্দ উচ্চারণ করা যায়। এদের ধারণা যেহেতু রাশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহে সমাজতন্ত্র নেই, সূতরাং মার্ক্সবাদ তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যারা এর প্রাসঙ্গিকতা থাকা না থাকা ভাবেন, তারা আসলে মার্ক্সবাদ বিষয়টি বোঝেননি। এদের কথার সুর ধরে যদি বলা হয় যে ফরাসি বিপ্লব যদি পরাস্ত হতো, তাহলে কি সামন্ততন্ত্রই হতো ইতিহাসের শেষ ব্যবস্থা যেমন করে এরা বলতে চায় পুঁজিবাদই শেষ? পুঁজিবাদেই সমাজের বিকাশ সমাপ্ত হয়ে গেছে, এর পরে আর কোনো সমাজ আসবে না- এই যদি হয় এই প্রাসঙ্গিক শব্দটির প্রাসঙ্গিকতা, তাহলে বলতে হয় প্রকৃতপ্রস্তাবে এরা নামকাওয়াস্তা বামপন্থি। 

[২] যার উদ্ভব আছে, তার বিলয় আছে- কথাটির মানে কী? এখানে বিলয় শব্দটি রূপান্তরকে ইঙ্গিত করছে। অর্থাৎ একটা বস্তু বা ঘটনা যাই হোক যেমন তার উদ্ভবের পেছনে কারণ আছে, বিলয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। সামন্ততন্ত্র থেকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার রূপান্তরে কি সেই কারণ যা তাকে অবিশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল? আর কিছু নয় সামন্ততন্ত্রের ব্যবস্থার মধ্যেই দেখা দিয়েছিল শ্রমবিভাজন যা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এই স্বতঃস্ফূর্ততার পেছনের ট্রিগারটি ছিল প্রয়োজনের। শ্রমবিভাজন সমাজে দ্বন্দ্ব হাজির করেছিল তার মীমাংসাই হচ্ছে ফরাসি বুর্জোয়া বিপ্লব। এই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে পুরনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বদলে নতুন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উদ্ভব হয় যাসলর চারিত্র্যবৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা।

আলাদা বলেই এটাকে রূপান্তর বলা হয়। এর মধ্য দিয়ে ভুমিদাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ হিসেবে স্বাধীন হয়েছিল এবং নিজের শ্রমশক্তি বিক্রি করার অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছিল। শ্রমবিভাজনের ফলে তৈরি বিবিধ পণ্য বাজার নামের একটি বর্গ বা স্থানের জন্ম দিয়েছিল। এই বাজারই পুঁজিবাদের তীর্থস্থান। কি হয় এখানে? হয় অবাধ প্রতিযোগিতা। একই পণ্য বিভিন্ন উৎপাদকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ফলে এখানে থাকে হারজিত। হারে বহু, জেতে স্বল্পসংখ্যক। এইভাবে এই পুঁজিবাদ ছোট ছোট পুঁজিকে গিলে ফুলেফেপে ওঠে এবং ক্রমশ একচেটিয়াত্ব কায়েম করে। এখানে প্রধান কী দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল থাকে? এখানে দুটি পরস্পর বিপরীতধর্মী শ্রেণীর সহাবস্থান থাকে। একদিকে সর্বহারা শ্রমিক যে কেবল মজুরি পায় এবং কোনরকমে বেঁচে থাকে আর থাকে পুঁজিপতি যে শ্রমশক্তি থেকে উদ্ভুত উদ্বৃত্তমূল্য আত্মসাৎ করে। 

দিনে দিনে এই উদ্বৃত্তমূল্য বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থা হয় যে পৃথিবীর সিংহভাগ সম্পদ তাদের দখলে চলে যায়। এর ফলে সমাজে দেখা দেয় দ্বৈততা। সেটা ভোগের। উৎপাদন হয় সামাজিক এবং ভোগ হয় ব্যক্তিক। ভোগ ব্যক্তিক হওয়ার ফলে বাজারে পণ্যের যে সরবরাহ তার আধিক্য দেখা দেয়, পণ্য অবিক্রীত পড়ে থাকে। ফলে অর্থনীতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এখান থেকে মুক্তির উপায় কি? এই যে ভোগ এবং পণ্যের আধিক্যের মধ্য দ্বন্দ্ব দেখা দিল, এর মীমাংসা কিভাবে সম্ভব? সম্ভব উৎপাদন এবং ভোগ উভয়কে সামাজিক করার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এটা তো এমনি এমনি হবে না। বুর্জোয়া বিপ্লব যেমন বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে হয়েছে, এই বিপ্লব হবে শ্রমিক শ্রেণির দ্বারা। কারণ তারাই বঞ্চিত এবং সংখ্যায় বেশি। কেবল তারাই তাদের শ্রেণির মুক্তির স্বার্থে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তাকে এমন একটি সমাজব্যবস্থায় রূপান্তর করতে পারে যেখানে বিদ্যমান দ্বন্দ্বের মীমাংসা ঘটবে। মার্ক্সবাদ এটাই বলে। আর কিছু না। 

যদি কেউ সমাজের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্বের স্বরূপ বুঝতে পারে, তবে এর রূপায়ন যে অবিশ্যম্ভাবী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা কোন থিসিস নয়, এটা ফ্যাক্ট, ঘটতেই হবে। এটা বিকাশের বিজ্ঞান। [৩] তাহলে ‘এখনো প্রাসঙ্গিক’ কথাটার মানে কি? এটা কি সেই বুজরুকি নয় যে কারণটি না বুঝে ভাসা ভাসা ভাবে বুঝে প্রকারন্তরে পুঁজিবাদকে ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে রক্ষণশীল পুঁজিবাদী দালাল হয়ে যাওয়া? ইতিহাসের মহান তত্ত্বকার এবং বিপ্লবী লেনিনের জন্মদিনে উপরের কথাগুলো মনে এলো। শুভ জন্মদিন, প্রিয় কমরেড লেনিন। লেখক: ঔপন্যাসিক

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়