শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে ভারত ◈ ব্রিকসকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে বাংলাদেশের: ডা. দীপু মনি ◈ পল্টনে ফাইন্যান্স টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ◈ ঢাকায় ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা রয়েছে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ◈ এমপি আনার হত্যা তদন্তে কোনো চাপ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ সাধারণ নাগরিকের মতো করেই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ◈ শিগগিরই আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে: মির্জা ফখরুল ◈ ড. ইউনূসের কথা অসত্য, জনগণের জন্য অপমানজনক: আইনমন্ত্রী ◈ সরকারের ব্যাংকঋণে বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ ব্যাহত হবে: সিপিডি

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:৫৭ রাত
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:৫৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাঙালিত্ব : হিন্দুত্ববাদের দখল ও ইসলামবাদের বিসর্জন

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা: হিন্দুত্ববাদীরা বাঙালীত্বকে দখল করতে চায় হিন্দুত্বের নামাবলি পরিয়ে। আর ইসলামবাদীরা বাঙালীত্বকে পরিত্যাগ করে করব দিতে চায় ইসলামের কাফনে ঢেকে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে সংখ্যাতত্ত্বে। দুর্ভাগ্যবশতঃ বা সৌভাগ্যবশতঃ বাঙালী তথা বাংলাভাষীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ও বৃদ্ধির হার ঊনিশ শতকের প্রথম আদম শুমারি থেকেই এতো বেশি যে, হিন্দুবাদী দখল প্রয়াস ও ইসলাবাদী বিসর্জন বা পরিত্যাগের চেষ্টা কোনোটাই সফল হওয়ার নয়। আর কিছু না হলেও অন্ততঃ সংখ্যার কারণে বাঙালীত্বের ওপর হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব নিঃশেষিত হতে বাধ্য। 

একটা সময় আসতে পারে যে, পশ্চিম বাংলায়ও বাঙালী সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এবং হিন্দুত্ববাদী বাঙালী হিন্দুরা বাংলা ছেড়ে উত্তরের দিকে যেতে থাকবে। তখন, বাঙালী বলতে, বাংলাভাষী বলতে শুধু বাঙালী মুসলমানই বুঝাবে। অন্যদিকে, ইসলামবাদীরা বাঙালীকে যতোই আরবীয় প্রতিরূপে পেতে চাক না কেন, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের কারণে তা সুদূর পরাহত। ধর্মীয় পরিচয়ে বাঙালী মুসলমানের জাতি, পরিচয় ঐতিহাসিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে ১৯৭১ সালে, এবং তার আন-ডুয়িং প্রায় অসম্ভব। ইসলামবাদীদের পক্ষ থেকে বাঙালীত্ব-বিরোধিতা একটি ঐতিহাসিক আইরনি, কারণ বাঙালীর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচয় উভয়ই মধ্যযুগের মুসলমানের কাজ। 
স্বাধীন বাঙালী রাষ্ট্রের জনক যে বাঙালী মুসলমান শেখ মুজিবুর রহমান, তা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি ঐতিহাসিক পরম্পরার অনিবার্যতা। বাঙালী হিন্দুর বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রসরতা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীন বাঙালী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়া তার পক্ষে ভূগোল ও ইতিহাসের কারণে সম্ভব হয়নি (ভূগোল ও ইতিহাস আমি পরে ব্যাখ্যা করবো)। হলে খুবই ভালো হতো। আরও ভালো হতো যদি তা চিত্তরঞ্জন দাশের মতো ন্যায়বোধ সম্পন্ন হিন্দু-মুসলিম সমন্বয়বাদী নেতার নেতৃত্ব হতো। বাঙালীর দুর্ভাগ্য যে তাদের ‘দেশবন্ধু’ চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর বিখ্যাত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ বাস্তবায়িত করার আগে মৃত্যুতে বিলীন হয়ে যান। কিন্তু তার শিষ্য সুভাষবসু ‘নেতাজি’ হয়েছেন হিন্দুস্থানের, যার কাছে একান্ত বাঙালীত্ব কোনো রাজনৈতিক আবেদন রাখেনি। 

যাহোক, কয়েক দশক পর বাঙালী পেলো ‘দেশবন্ধু’র আদলে এক ‘বঙ্গবন্ধু’ যে বাঙালীর সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্গত এবং প্রাথমিকভাবে সাম্প্রদায়িক হলেও অচিরেই ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী পরিচয়ে বলীয়ান হয়ে ওঠেন এবং বিভক্ত বাংলার মুসলিম গরিষ্ঠ পূর্বখণ্ডে স্বাধীন বাঙালী রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দেন। শেখ মুজিবুর রহমানেরও সীমাবদ্ধতা এই যে, তিনিও বিশ্বের সকল বাঙালীর পিতা রূপে আবির্ভুত হতে পারেননি। তিনি বস্তুতঃ পাকিস্তানী বাঙালীর জাতির পিতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। 

সমগ্র বাংলা ও সমগ্র বাঙালী জাতিকে এক করে একটি প্রকৃত বাঙালী রাষ্ট্র ও বাঙালী জাতি গঠন বিশ্বের সকল বাঙালীর প্রাপ্য। আর এটি হতে পারে একমাত্র বাঙালী জাতির ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে। এ মুহূর্তে বাঙালী হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ খুব কমই আছেন। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার দাবী করেন, তারা ঐতিহাসিক প্রভাব প্রক্রিয়ার কারণে বুঝতেই পারছেন না যে, তাদের চর্চা বাঙালী মুসলমানের কাছে ধর্মনিরপেক্ষ নয় বরং পৌত্তলিক পর্যবেক্ষিত হয়। আমি মনে করি, প্রকৃত ধর্মনিরেপেক্ষতা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের কাছেই সমাদৃত হবে, এবং সেটিই পারবে সমগ্র বাঙালী জাতিকে অভিন্ন আত্মপরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে।  লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড। ১৬/০৪/২০২৪

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়