মনিরুল ইসলাম : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করেই পুরনো সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। তবে জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতেই বিরোধী জোট এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের প্রত্যাশা ছিল গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে এবং সংস্কার প্রস্তাবনার আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এরপরও বিরোধী জোট প্রার্থী দিয়েছে, যাতে সরকারি দল এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি মূলত জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান ভোটগ্রহণ কোনো নিয়মিত সংসদ অধিবেশনের অংশ নয়। এখানে স্পিকার নয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্ব করছেন। ফলে এই ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা নয় বলে তাদের প্রত্যাশা ছিল।
তিনি দাবি করেন, যদি সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন, তাহলে রাষ্ট্রপতির পদ আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ হতো এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হতো।
সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ অব্যাহত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।