শিরোনাম
◈ কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই এমপি মুখোমুখি ◈ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত, কেন ফাঁপড়ে পড়লো বাংলাদেশ? ◈ অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি, স্তব্ধ কমিউনিটি ◈ বিশ্বকাপ ট্রফি দুইবার চুরি হয়েছিল যেভাবে ◈ লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ ১৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ◈ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে ভারতে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ◈ আরব নেতাদের অনুরোধে ইরানের ওপর ট্রাম্পের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত ◈ হরমুজ সংকটে বিশ্বে দ্রুত কমছে তেলের মজুত, সতর্ক করল আইইএ ◈ রাজধানীর কলমিলতা বাজারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট ◈ মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর কীভাবে নেওয়া হবে

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬, ০৭:০৮ সকাল
আপডেট : ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলায় অব্যাহতি বা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে

মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সবক দিলেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের ২৮২ জন সাংবাদিকের নাম জড়ানো হয়েছে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার মামলায়। এসব মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে আসছে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত সম্পাদক পরিষদ।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েও লাভ হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গত রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আইনজ্ঞরা বলছেন, মামলার তদন্ত চলার সময় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(ক) ধারায়।

মানবাধিকার, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১৯৫ বছরের পুরনো ফৌজিদারি কার্যবিধি আইন ১৮৯৮-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পরিবর্তন আনে বর্তমান সরকার। সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে গত ১০ এপ্রিল ‘ফৌজিদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংশোধনীগুলোর মধ্যে ১৭৩ ধারায় ‘অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন, ইত্যাদি’ শিরোনামে একটি ‘ক’ উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে, ক্ষেত্র অনুযায়ী পুলিশ কমিশনার বা জেলা পুলিশ সুপার বা তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী সমমর্যাদার অন্য কোনো কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।

যদি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে, তবে ক্ষেত্র অনুযায়ী পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার বা তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী সমমর্যাদার অন্য কোনো কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদনটি দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন এবং সেই প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, ক্ষেত্র অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হলে উপধারা (৩) সাপেক্ষে ওই অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন, তবে অবশিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।’

নতুন যুক্ত করা এই ধারাটিতে আরো বলা হয়েছে, কোনো অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া সত্ত্বেও যদি তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত ও সারগর্ভ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে ওই ব্যক্তি বা অভিযুক্ত অপরাধ সংঘটনে জড়িত, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৭৩ ধারার অধীনে পুলিশ প্রতিবেদনে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত পর্যায়ে থাকা কোনো একটি মামলা যদি হয়রানিমূলক মনে হয়, তবে রাষ্ট্র মামলাটি প্রত্যাহার করতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(ক) ধারা অনুসারে কোনো আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার বা সমমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, আবেদনকারী এই মামলার সঙ্গে জড়িত না, তখন এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আদেশ দিতে পারেন।

তা ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুসারে কোনো ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিতে পারে জানিয়ে এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তটি সরাসরি বাস্তবায়ন হয় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি বা আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ডিসি) কাছে মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ পাঠানো হয়। পরে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত যদি মনে করেন মামলাটি প্রত্যাহারের যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তবেই আসামি বা আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতি বা খালাস পান। আবার আদালত চাইলে সরকারের এই আবেদন নাকচও করে দিতে পারেন।’

গণমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢালাও মামলা, যাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা বলে দাবি করে আসছেন অনেকে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বা ভিন্নমতের কারণে সাংবাদিকদের একের পর এক ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হয়েছে।

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে নজিরবিহীন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। অন্তর্বর্তী জামানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ ৪৯টি মামলায় আসামি করা হয়েছে দেশের অন্তত ২৮২ জন সাংবাদিককে। এর মধ্যে ১৭৪ জন সাংবাদিক হত্যা মামলা, ১২ জন হত্যাচেষ্টা মামলা ও ৩৭ জনকে নাশকতার মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে; অনেককে আত্মগোপনে, অনেককে আবার কাটাতে হচ্ছে যাযাবরের জীবন।

গত রবিবার সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানিয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ২৮২ জন, এর মধ্যে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৯৪ জন সাংবাদিকের তালিকা প্রতিকারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে এসেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেটা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।

তদন্ত পর্যায়ে অব্যাহতি না পেলে বা নির্বাহী সিদ্ধান্তে মামলা প্রত্যাহার না হলে ৪৯টি মামলার আসামি ২৮২ জন সাংবাদিক আইনি কী প্রতিকার পেতে পারেন, জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে মামলাটি মোকাবেলা করতে হবে। জামিনযোগ্য অপরাধ হলে তিনি আদালত থেকে জামিন পাবেন। আর মামলার অভিযোগ গঠনের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় হাইকোর্টে অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে উপযুক্ত প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।’

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারায় মিথ্যা অভিযোগের শাস্তির বিধান রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামিকে খালাস দেওয়ার সময় প্রমাণ পান যে মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা মতে, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। আবার ২১১ ধারায় মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করার শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোনো অভিযোগ দায়ের করলে অথবা কোনো অপরাধ সংঘটিত করেছে মর্মে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে মামলা দায়েরকারীকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করারও বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয় যদি এমন হয় যে, যার কারণে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা সাত বছরের ওপর সাজা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাহলে দায়ী অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়