বাংলাদেশের ৫টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি। সোমবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে বাংলাদেশ-কাতার ৭ম যৌথ কমিটির বৈঠকে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গমন করেছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছর এই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের বিশেষ অনুরোধ জানান। জবাবে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন। কাতারের শ্রমমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি আরও জানান, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে ২টি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার এবং ধর্মীয় পেশাজীবীসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলামসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।