বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং শিগগির ঢাকায় দায়িত্ব নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার-পরবর্তী সময়ে ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নয়াদিল্লির এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন ও মসৃণ করার লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করলেও ১৯৯০ সালে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।
২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর আসন থেকে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১১ সালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল ত্যাগ করে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং বর্তমানে এই দলেই রয়েছেন।
গুজরাটি পরিবারে জন্ম নেওয়া দীনেশ ত্রিবেদী ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং বাংলা ভাষায় পারদর্শিতার কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে তিনি বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।