মনিরুল ইসলাম: সংবিধান সংশোধন বিষয়ে অচিরেই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চায় আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই।
এদিকে, সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারে বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। একাজে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞ আইনজ্ঞদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের রাখা হবে। এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানাগেছে।
এদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর আলোকে সংবিধান সংস্কার নিয়ে মুখোমুখী অবস্থান নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল। সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারি দল বিএনপি জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির গঠন করে সেই কমিটির সুপারিশ আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে চায়। এই অবস্থায় বিরোধী দলের দাবিকে আমলে না নিয়ে ইতোমধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্পিকার শীঘ্রই সংসদে এই কমিটি উত্থাপন করবেন বলে জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর অধীনে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে ওই মূলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। ওই আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ওই আলোচনায় অংশ নেন। দু’পক্ষ থেকে পৃথক প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অবশ্য ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জানাগেছে, বিরোধী দল সমসংখ্যক সদস্যের প্রস্তাব করলেও সংসদের বিশেষ কমিটিতে আসন অনুপাতে তাদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে। যদিও বিরোধী দল এই কমিটিতে থাকার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তার পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই। এ কারণে বিরোধীদল সংবিধান সংশোধন কমিটির পরিবর্তে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বানের লক্ষ্যে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা থাকবেন বলে আশাবাদি সরকারি দল।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই গঠন করা হবে। এই কমিটি কত সদস্যের হবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে সরকারি ও বিরোধী দলের আইন বিশেষজ্ঞরা এই কমিটিতে থাকবেন। সেক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের হতে পারে।
সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় আমরা এই কমিটি গঠন করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর করতে চাই। আমরা যাই করি না কেন, তার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা তাদের (বিরোধী দল) চাই। আমাদের সদিচ্ছা আছে। তারা এই কমিটিতে থাকবেন, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।