লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে । আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টায় তাদের এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হচ্ছে। বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা আজ বুধবার ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা এবং ৬২ জন বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।
ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত এ সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রত্যাবাসনের সময় অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই অনিয়মিত পথে লিবিয়ায় গিয়ে দালালচক্রের হাতে জিম্মি হন এবং মুক্তিপণের জন্য নির্যাতনের শিকার হন। খাদ্য ও পানির সংকট, চিকিৎসাহীনতা এবং চরম মানবেতর জীবনযাপনের কথাও তারা তুলে ধরেন। কেউ কেউ দেশে আসতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথাও জানান।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের ভয়াবহতা তুলে ধরে ভবিষ্যতে বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে অন্যরা এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।
দূতাবাস জানায়, লিবিয়ায় আটক ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।