শিরোনাম
◈ ২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ ◈ ব্যাংকঋণে শীর্ষে সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার খাতে বাড়বে ভর্তুকি ◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব ◈ সিঙ্গাপু‌রের কা‌ছে এক গো‌লে হে‌রে এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ করলো বাংলাদেশ ◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৯ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব

মনিরুল ইসলাম : সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।জবাবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বলেছে কোন কমিটি গঠন করতে হলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে হতে হবে। 

এদিকে, সরকারি দল গণভোটের গণরায় না মেনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। অন্যদিকে সরকার দলীয় সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অন্তর্বতী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার আদেশ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মূলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। এই আলোচনায় অংশ নেন সরকার দলীয় সদস্য আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সাইফুল আলম মিলন, নাজিবুর রহমান ও নূরুল ইসলাম বুলবুল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের  প্রশ্নে সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। ওই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলে সেখানে বিরোধী দলের মতামতের কোনো মূল্যায়ন হবে না এবং শেষ পর্যন্ত তা ‘যে লাউ সেই কদু’-তেই আটকে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তার শর্তের কথা তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, আমরা শুধু এক লাইনে চলতে থাকলাম, এটার সমাধান কীভাবে হবে তা আমরা সবাই বুঝি। আমরাও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান চাই। সংস্কার পরিষদের ওপর যে আলোচনা হলো, তাকে একটি জায়গায় পৌঁছানোর জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তবে সেখানে আমাদের আহ্বান থাকবে, সরকারি ও বিরোধী দল, দুই দিক থেকেই সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে এই কমিটি গঠন করতে হবে।

সংসদ ও সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ এবং জাতির জন্য সংবিধান এবং এই সংসদ। আমরা কে সরকারি বেঞ্চে আর কে বিরোধী বেঞ্চে, এটা কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে যারা একসময় ওখানে বসতেন, আজ তারা কোথাও নেই। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা দলের নয়, জনগণের অভিপ্রায়কে সম্মান জানাতে এখানে এসেছি।

পার্লামেন্টে নিজেকে ‘চার দিনের শিশু’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আইন বা সংবিধান মানুষের জন্য, জনগণের জন্য; মানুষ বা জনগণ আইন কিংবা সংবিধানের জন্য নয়। এ সময় সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মহান সংসদে ওই বিষয়ে সময় নষ্ট করার কোনো দরকার ছিল না। মহৎ লক্ষ্যে কাজ করতে গেলে এমন সংকট নিরসন করা সরকারেরই দায়িত্ব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এরআগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যে নোটিশটি বিরোধীদলীয় নেতা উত্থাপন করেছেন, তার মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিষদের অধিবেশন কেন রাষ্ট্রপতি আহ্বান করলেন না? এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল।

রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আর আদেশ জারির ক্ষমতা রইল না। তারপরও রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করলেন কীভাবে? যেই আদেশের জন্মই বৈধ হলো না, সেই আদেশ লিগ্যাল ল্যাঙ্গুয়েজে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ সূচনা থেকেই অবৈধ। এই আদেশটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ না হওয়ার কারণে সংসদের প্রথম দিনে উপস্থাপন করা হয়নি।

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, সারা জাতির মধ্যে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কার চায় না বা বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। আমরা জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। এই সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আমরা ধারণ করি। কিন্তু যে আদেশটি (সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ) নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি আমরা মানছি না কারণ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই চারটির মধ্যে তিনটি প্রশ্নের সাথে জুলাই জাতীয় সনদের মিল আছে, কিন্তু একটির সাথে নেই। আপনি জাতিকে এভাবে জোর করে কোনো আইন গেলাতে পারেন না। 

তিনি বলেন, অস্তিত্বহীন একটি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি বিধান ছিল না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথের ফর্ম সংসদে পাঠানোর এখতিয়ার রাখেন না। এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সর্বশেষ, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাইকে নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চাই। তাই আমি সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষে প্রস্তাব রাখছি, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হোক। ওই কমিটিতে সবার আলোচনার ভিত্তিতে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানানোয় বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে সমান সংখ্যক সদস্যের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিরোধী দলের নেতাও তা ইনডিরেক্টলি গ্রহণ করে বলেছেন সদস্য সংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভালো হয়। মাননীয় স্পিকার, বিচার মানেই তালগাছটা আমার, এটা তো হতে পারে না! সংসদে ২১৯ জন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ, আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ, এটা পৃথিবীর কোন জায়গায় আছে? এটা কি বৈষম্য না? এটা কোন আইনে আছে?

এরপর আইনমন্ত্রী স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি একটি কমিটি গঠন করে দিন। এই সংসদ একটি কমিটি গঠন করুক, সেখানে আমরা সবকিছু চুলচেরা বিশ্লেষণ করে জুলাই সনদের পথ ধরে এমন একটি সংশোধনী আনব, যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়