শিরোনাম
◈ ইরানের পদক্ষেপে উদ্বেগ, হরমুজে নিরাপদ চলাচলে ২২ দেশের অঙ্গীকার ◈ জামালপুরে ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, চার শিশুর মৃত্যু ◈ রাজধানীসহ ১৫ জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, ১৫ নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ◈ বাংলাদেশ খুলেছে দরজা, ভারত কবে দেবে পূর্ণ ভিসা সেবা? ◈ ডলার বাড়ায় চাপে স্বর্ণ, দামে বড় দরপতন ◈ রোনালদোকে ছাড়াই দল ঘোষণা করল পর্তুগাল ◈ আপনি সবার চেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী, ঈদের মঞ্চে মোদিকে কেন এ কথা বললেন মমতা ◈ ইরা‌নের স‌ঙ্গে সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলকে কড়া শাস্তি দিলো ফিফা, মোটা অঙ্কের জরিমানা ◈ রাষ্ট্রপতির ঈদের শুভেচ্ছা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ◈ ৭১ এবং ২৪-এ যারা শহীদ হয়েছে শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করছি: তারেক রহমান

প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৫১ দুপুর
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ খুলেছে দরজা, ভারত কবে দেবে পূর্ণ ভিসা সেবা?

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া এখনো সীমিত। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে যেতে পারছে না।

ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম চালু করলে এদেশে ভারত কেন করছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নিরাপত্তা উদ্বেগ, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা ভিসা চালু থাকলেও সীমিত। পর্যটক ভিসা নিয়ে এখনো সুখবর নেই। তবে ধীরে ধীরে ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু ভিসা নয়, দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। ভিসা কার্যক্রমও।’

জানা যায়, বাংলাদেশের ১৬টি স্থানে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) কার্যক্রম চালু ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারত সব ধরনের ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর আগে ৪ আগস্ট থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে অবস্থিত আইভ্যাকগুলো বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পাসপোর্ট জমা ও ফেরত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি আংশিক স্বাভাবিক হলে আগস্টের শেষ দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হয়। তবে নতুন ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। সে সময় আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত সেবার কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে, তাই আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভিসা অনুমোদিত হলে পুনরায় পাসপোর্ট জমা নেওয়া হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরে যাত্রী পারাপারে ভিড় নেই

পরবর্তীসময়ে সীমিত আকারে পাঁচটি আইভ্যাক থেকে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করে ভারতীয় হাইকমিশন। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্র থেকে মেডিকেল, ডাবল এন্ট্রি ও ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু অব্যাহত রয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে ১৬টি ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) চালু থাকলেও বর্তমানে মাত্র পাঁচটির কার্যক্রম চলছে। পুরো ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নই। ১৬টি কেন্দ্র চালু করতে শুধু অবকাঠামো নয়, সংশ্লিষ্ট জনবলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। আইভ্যাকগুলো থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে নতুন করে জনবল নিয়োগের বিষয়ও রয়েছে, যা হুট করে সম্ভব নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওই ভারতীয় কর্মকর্তা আরও জানান, এসব কারণে ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং ঈদের পরই সবকিছু স্বাভাবিক হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চালু রেখে যতটা সম্ভব আবেদন নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত ডিসেম্বর মাসে দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন ঘিরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন অনিবার্য কারণে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

স্বাভাবিক হচ্ছে সম্পর্ক
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন বাংলাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে আসছে দিল্লি। এসব বিষয় ঘিরে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছিল, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগেই সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেওয়া হচ্ছিল।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সম্প্রতি একটি ইফতার অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাদের মধ্যে দীর্ঘ অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়।

এছাড়া অর্থ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রণয় ভার্মা। চলতি মাসে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে সরকারদলীয় মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী এবং তার প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে। ভারতও শিগগির পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালু করবে বলে আশা করছি।’

এর আগে নতুন সরকার গঠনের পর এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত আগ্রহী। সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, যিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে ভারতের আগ্রহ এবং সেই লক্ষ্যে সহযোগিতার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রায় আধাঘণ্টার ওই বৈঠকে পারস্পরিক মর্যাদা, স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

নতুন সরকার গঠনের পরদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ বজায় রেখে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই।’

উৎস: জাগোনিউজ24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়