ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার (২১ মার্চ) উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী-সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যেই পালিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়িয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোড-এ অনুষ্ঠিত হয় বৃহত্তম ঈদের জামাত। বৃষ্টির মাঝেও হাজার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। মঞ্চ থেকে মমতা বৃষ্টি সম্পর্কে বলেন, ‘এটি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ’ এবং তিনি সবাইকে বাংলায় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তবে নির্বাচনি আবহে ঈদের দিনেও রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে ছাড়েননি তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘আমি বলব, আপনি সব থেকে বড় অনুপ্রবেশকারী।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে গিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও দেশে ফিরে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে।
এদিকে কলকাতার নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ এবং পার্ক সার্কাস ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাতে বিপুল জনসমাগম হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, উত্তরপ্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, জম্মু-কাশ্মীর ও বিহারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় ঈদ।
রাজধানী দিল্লির জামে মসজিদ, লখনৌর রুমি দরজা, মুম্বাইয়ের জুমা মসজিদ ও মাহিম দরগাহ এবং রাজস্থানের আজমিরে শরিফ দরগাতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ের কিছু এলাকায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। উৎস: চ্যানেল24