পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনেই স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হন। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।
অধিবেশনের সরকারি বেঞ্চে প্রথম সারিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসেন। তার পাশে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এরপর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন অবস্থান নেন।
অধিবেশন শুরুর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানানো হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’। স্পিকারের বহুবার শান্ত থাকার অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধীদলের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান। সরকারি বেঞ্চের সদস্যরা উৎসাহে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি এবং ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই সংসদে বক্তব্য দেয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন ২০২৪ সালের ৩ জুলাই শেষ হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।