শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৪৮ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

সংসদে নজীরবিহীন হট্টগোল, প্ল্যাকার্ড-গেট, গেট গেটআউট স্লোগানে রাষ্ট্রপতিকে ‘ধিক্কার’

মনিরুল ইসলাম : অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমণ বার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

আগমন বার্তা ঘোষণা করা মাত্রই  বিরোধীদলীয়  সদস্যরা  একযোগে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাস্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে কিলার,গেট, গেট গেটআউটসহ নানান শ্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভের মধ্যে বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়।

সরকার দলীয় সদস্যরা দাড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা বসে পড়েন। প্রথমে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বসে থাকলেও জাতীয় সংগীতের মাঝ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরাও দাঁড়িয়ে উঠেন। বিরোধীদলীয়  উপনেতা আব্দুল্লাহ তাহের মাইক ছাড়া বলতে থাকেন আমরা জাতীয় সংগীতের সন্মানে দাঁড়িয়ে গেলাম। তবে আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি।  প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনী’, ‘কিলার চুপ্পু’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’ বলতে থাকেন। তাদেরকে শৃখলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। 

আর রাষ্ট্রপতি তার জন্য নির্ধারিত ভাষণ ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতত্বে শ্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র এক সাথে চলবে না’, ‘ফ্যাবিবাদের দোসররা, হুশিয়ার সাবধান’।

তারা টেবিল চাপড়ে ও চিৎকার করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাকর  পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এই হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন এমপি বলতে থাকেন, আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না, রাষ্ট্রপতি অর্ধেক মানছেন, অর্ধেক মানছেন না। তাকে অসম্মন করছেন। অধিকাংশ সরকার দলীয় সদস্যরা চুপচাপ বসে ছিলেন।

বিক্ষোভকালে মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্ট, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। 

এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই বলেন, এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগি, দালাল। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না। এ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। কিন্তু তাকে বাধা দেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। তিনি দুই হাত প্রসারিত করে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বাইরে নিয়ে যান।

প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এরমধ্যেও বিরোধী দলের বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারণ ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মূলতবি করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়