বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত অগ্রগতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে তারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানান এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে তদন্তের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া বিতর্কিত পোস্টটি নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনীতি করছে। যারা পোস্টটিকে জামায়াত আমিরের বক্তব্য বলে প্রচার করছে, তা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। অন্যের সমালোচনা না করে তাদের নিজেদের দিকেই তাকানো উচিত।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের কবলে পড়ে। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর দলটির কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।
জামায়াতের দাবি, বঙ্গভবনের একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে পাঠানো ফিশিং মেইলের মাধ্যমে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করা হয়। হ্যাক হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারীবিদ্বেষমূলক একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যা ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে দলটি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি একটি পরিকল্পিত সাইবার হামলা এবং এর পেছনে সরকারি ই-মেইল অপব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত জানায়, হ্যাকিং–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেসেজ বঙ্গভবনের একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল। ওই ই-মেইল থেকে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে সিসিতে রেখে ‘Case-Study-Election.accdr’ নামের একটি ফাইল পাঠানো হয়, যার বিষয় হিসেবে ‘Urgent’ উল্লেখ ছিল। পরে ওই ফাইলে ক্লিক করার মাধ্যমেই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
জামায়াত আরও জানায়, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের অফিসিয়াল ই-মেইল আইডি (assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd) ব্যবহার করে ওই ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমানের ই-মেইলে পাঠানো ফাইলটিতে ক্লিক করার পরই তার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।