ডেস্ক রিপোর্ট : সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে সারাদেশে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা কতটা আছে সেই প্রশ্নটি।
বাংলাদেশ থেকে গত দুই বছর যত নারী কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গিয়েছেন তার বেশিরভাগই গিয়েছেন সৌদি আরবে। এরপরেই আছে জর্ডানের অবস্থান। তবে সৌদি আরবের তুলনায় জর্ডানে যাওয়া নারীর সংখ্যা এক তৃতীয়াংশেরও কম। ----- বিবিসি বাংলা
সরকারি হিসেবে, ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে শুরু করে চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজারের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই গেছেন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার।
আবার দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্য দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন, যার মধ্যে সৌদি আরব থেকেই ফিরেছেন প্রায় এক হাজার।
ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে কাজ করেন এমন সংস্থাগুলো বলছে, মূলত শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন, ঠিকমতো বেতন না পাওয়া কিংবা একেবারেই না পাওয়া এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াটাই অধিকাংশ নারী শ্রমিকের ফিরে আসার মূল কারণ। এমনই একটি সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ওকাপের চেয়ারপার্সন শাকিরুল ইসলাম বলছেন, সারাদেশের কত নারী বিদেশ থেকে প্রতি বছর ফিরে আসতে বাধ্য হন তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও পাওয়া যায় না।
যারা ফিরে এসেছেন তাদের নিয়ে গত বছর জুলাইয়ে করা গবেষণায় আমরা দেখেছি যে ৯০ ভাগই ফিরে এসেছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
সৌদি আরবের বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলছেন, এক দশক আগে গৃহকর্মী নিয়ে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ যে চুক্তি করেছিল তাতে কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে আসেনি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা শুধু বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা নিয়মিতভাবেই এ বিষয়ে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা আসলে আছে?
ভিশন ২০৩০ এর আওতায় সৌদি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনে কয়েক বছর আগে থেকে কিছু সংস্কার এনেছে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। তখন দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর ফলে বিদেশি কর্মীদের চাকরি পরিবর্তন ও চলাচলের স্বাধীনতা বাড়বে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি প্রেস এজেন্সি বলেছিল, সৌদি আরব গৃহকর্মী ও সমপর্যায়ের কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করেছে।
এতে বলা হয়, নিয়োগকর্তারা কর্মীদের চাকরির চুক্তিতে উল্লেখ নেই - এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করতে পারবেন না।
একইভাবে, তাদের তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে বাধ্য করা কিংবা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করাও নিষিদ্ধ, যা তাদের স্বাস্থ্য, শারীরিক নিরাপত্তা বা মর্যাদার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
কিন্তু এরপরেও দেশটিতে বাংলাদেশি নারীকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থামেনি।
সৌদি আরবে নারী শ্রমিক কখন থেকে যাওয়া শুরু হয় তার আনুষ্ঠানিক তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে গৃহকর্মী হিসেবে আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশি নারীরা সেখানে কাজ করছেন প্রায় দুই বা আড়াই দশক ধরে; কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন