ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫) নামের এক রাশিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছেন। তাকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করে এজেন্সি। তিনি উপজেলার জায়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে নিহত জাহাঙ্গীর হোসাইনের বন্ধু মৃদুল ফেসবুকের টাইমলাইমে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে নিহত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেন। মৃদুল রাশিয়াতে জাহাঙ্গীর হোসাইনের সাথে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।
মৃদুলের ভিডিও বার্তা ও জাহাঙ্গীর হোসাইনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৮ মে (আনুমানিক)। এ ঘটনায় চারজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন নিহত ও একজন সৈন্য আহত হন। মৃদুল ঘটনার স্থলে ছিলেন না। তিনদিন পর নিশ্চিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারকে জানান। নিহত অপর দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
মৃদুল ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী হলো আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি। যাদের আরএম নম্বর ১.৪২। তাদের প্রতারণার জন্যই তিনজন বন্ধুকে হারালাম।
জাহাঙ্গীর হোসাইনের ফুফাত ভাই মো. রমজান বলেন, তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় জাহাঙ্গীর হোসাইন। দুই বছর আগে বাবাকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার দুবছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাড়ে তিনমাস আগে একটি কোম্পানির চাকরির কথা বলে রাশিয়াতে নিয়ে যায় একটি এজেন্সি। সেখানে পিগ ফার্মে মাসখানেক কাজ করার পর ঠিক মতো খেতে না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীর। সুস্থ হওয়ার পর রেস্টুরেন্টে চাকরির আশ্বাস দিয়ে সেই এজেন্সি জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ মোট সাতজনকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে জোর করে তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দুইমাস প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধে পাঠানোর সপ্তাহখানেকের মধ্যে নিহত হন জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ তিনজন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার খবর কেবল তার স্ত্রী মাশুকা জানত। আর কাউকে জানায়নি। জাহাঙ্গীর হোসাইনের সাথে পরিবারের শেষ কথা হয় গত দুই সপ্তাহ আগে। তখন জাহাঙ্গীর জানিয়েছিল সে কিছুদিনের জন্য নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবে। তাই যোগাযোগ করতে পারবে না।
জয়কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, 'অফিসিয়ালি কিছু জানতে না পারলেও আপনার মাধ্যমে জেনে নিহত জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা রাশিয়ায় জাহাঙ্গীর হোসাইনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।