পরীক্ষার সময়টা কেবল শিশুকিশোরদের জন্য নয়, বাবা-মায়ের জন্যও অনেক দুশ্চিন্তার সময়। সন্তানের ভালো ফল করার ইচ্ছা থেকে আমরা অনেক কথাই বলে ফেলি। কিন্তু সমস্যা হলো, ভালো উদ্দেশ্যে এসব বলা হলেও চাপ বাড়াতে পারে। এমনকি তারা মন খারাপ করাতে পারে, এতে আত্মবিশ্বাসও কমতে পারে।
শিক্ষাবিষয়ক গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী সিনথিয়া ম্যাকভে বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানকে চাপ না দিয়ে সহায়তা করা এবং তাদের মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে দেওয়া।
‘চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে’
শুনতে এটা খুবই ভালো কথা মনে হলেও, বাস্তবে এর কোনো স্পষ্ট মানে নেই। শিশুরা তখন ভাবে, ‘ঠিক হয়ে যাবে মানে কী? আমি কি ভালো রেজাল্ট করব, নাকি কেবল পাস করলেই হবে?’
সবচেয়ে বাস্তব কথা হলো, প্রায় সব শিশুই পরীক্ষার সময় চিন্তা করে। তাই এর বদলে বলা ভালো, ‘এটা চাপের সময়, কিন্তু তুমি তোমার সেরাটা দাও।’
‘আমাদের সময় পরীক্ষা অনেক কঠিন ছিল’
সন্তানকে অনেক বাবা-মা এটা বলেন। কিন্তু এই কথা মোটেও শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না। আর এটা পুরোপুরি সত্যি নয় এবং শিশুদের শুনতে ভালো লাগে না।
তাই ভালো হবে, যদি বলি, ‘তোমার পরীক্ষা আগের মতোই চ্যালেঞ্জিং, তুমি কেবল নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করো।’
‘এখনো পড়া শুরু করোনি?’
স্বাভাবিকভাবে বাবা-মায়েরা চিন্তা থেকে এই প্রশ্ন করেন। কিন্তু এই প্রশ্ন শিশুদের চাপ বাড়ায়। গবেষকের পরামর্শ হলো, শিশুকে সাহায্য করা ভালো। কিন্তু চাপ দেওয়া ঠিক না।
তাই বলতে পারেন, ‘তোমার পড়ার প্ল্যান কখন থেকে? দরকার হলে এ ব্যাপারে আমি সাহায্য করতে পারি।’
এছাড়া চাইলে তার জন্য শান্ত ও সুন্দর পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। এটাও পরীক্ষার সময়ে সহায়তা করার ভালো উপায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা না চাইলে জোর করা যাবে না।
‘তুমি কি এভাবে পড়ছো?’
এই কথা বললে শিশু দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ সব শিশুর পড়ার পদ্ধতি এক হয় না। কারো কারো ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে।
যেমন—কেউ গান শুনে পড়ে। আবার কেউ খুব শান্ত পরিবেশে পড়তে পছন্দ করে।
তাই গবেষকের পরামর্শ, শিশুদের নিজের মতো করে পড়তে দেওয়া ভালো। মাঝে মাঝে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখা উচিত।
অন্যের সঙ্গে তুলনা করা
‘অমুকের ছেলে ভালো করেছে’ এটা একদম না বলাই ভালো। এতে শিশুরা নিজেকে ছোট মনে করে ও মন খারাপ করে। আর সত্যি কথা হলো, তারা এমন তুলনা পছন্দ করে না। তাই এটা কখনোই বলা উচিত নয়।
‘আমি আশা করি তুমি এত নম্বর পাবে’
এ ধরনের কথা শুনলে শিশুদের ওপর চাপ বাড়ে। তারা দুশ্চিন্তা করে, ‘যদি না পারি, তাহলে কী হবে?’ তাই ভালো কথা হলো, ‘আমি চাই তুমি তোমার সেরাটা দাও।’
‘এখন না পড়লে পরে আফসোস করবে’
হ্যাঁ, এই কথাটা সত্যি। কিন্তু এভাবে বললে কাজ হয় না। কারণ শিশুরা সবসময় বড়দের মতো ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে না। তাই বলতে হবে, ‘আমি জানি তুমি চেষ্টা করলে ভালো করবে।’
পরীক্ষার সময় কী করা উচিত
গবেষক সিনথিয়া ম্যাকভে বলেন, পরীক্ষার সময় শিশুদের পাশে থাকতে হবে। তাদের সাহায্য করতে হবে, কিন্তু চাপ দেওয়া যাবে না। বিশ্রাম ও পড়ালেখার ভারসাম্য শেখাতে হবে এবং তাদের নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে হবে।
সবচেয়ে ভালো হলো, তাদের একটু স্বাধীনতা দেওয়া।