শিরোনাম
◈ বিদেশগামীদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সহজে যাচাই করতে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক, নতুন নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ◈ এক কক্ষে শতাধিক, চৌকি ভাগাভাগি করে ঘুম, রাজারবাগে করুণ অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা! ◈ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা, জমা অর্থ কবে পাবেন গ্রাহক?  ◈ স্বাস্থ্যকর ওটসই শরীরের শত্রু! যাদের এড়িয়ে চলা উচিৎ ◈ সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই ◈ কৃষক কার্ড বিতর‌ণের জন‌্য তৈরি করা তালিকায় পাঁচ শতাধিক  অস্তিত্বহীন ◈ ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ আবার আলোচনায়, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশের দলগুলোর ◈ আজ থেকে ঈদযাত্রায় ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু ◈ ইরানে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল তেহরান ◈ ‌মে‌সিকা‌ণ্ডের ফাইল চেয়েছি, প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো : নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ

প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬, ১১:২৭ দুপুর
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

কৃষক কার্ড বিতর‌ণের জন‌্য তৈরি করা তালিকায় পাঁচ শতাধিক  অস্তিত্বহীন

ডেস্ক রি‌পোর্ট: সরকারের  নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১১ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জনের কৃষক কার্ড তৈরি করা হয়। গত পহেলা বৈশাখে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তৈরি হওয়া তালিকায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: দেশ রূপান্তর প্রতিবেদন

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি তালিকাভুক্ত এসব কৃষকের খোঁজ না পাওয়ার কারণ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয় কমিটির এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব কার্ডধারীর বিষয়টিকে প্রাথমিক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরের ধাপে যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই-মোহামেদ বলেন, কিছু কৃষক আছেন, যারা এক ফসলি চাষের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে আমন চাষে যুক্ত থাকেন। বাকি সময়টা শহরে বা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অন্য কাজ করেন। প্রি-পাইলটিংয়ে এ ধরনের ৪ শতাংশ কৃষক রয়েছেন, যারা এখনো কার্ড নেননি। ধারণা করছি, এর মধ্যে ২ শতাংশ হয়তো আর কখনই এ পেশায় ফিরবেন না। বাকি যারা থাকবেন, তাদের এ সুবিধায় আনার জন্য আমরা জুনের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারা হয়তো আমনের চাষাবাদের আগে গ্রামে ফিরবেন। এর মধ্যে যদি না আসেন, তাহলে তালিকা থেকে তাদের চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সবারই স্বাধীনতা রয়েছে, তিনি (কৃষক) কী করবেন। স্থায়ীভাবে পেশা পরিবর্তন করলে তিনি আর এ সুবিধাভোগীর তালিকায় আসবেন না।

সোনালী ব্যাংকসূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে ২১ হাজার ৫৬১ কৃষক তাদের ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সে হিসাবে এখনো ৫০৪ কার্ডধারীর হিসাব চালু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কেন কার্ডধারীরা অ্যাকাউন্ট খুলেনি, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকসংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে এ নিয়ে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের শুরুর দিকে জটিলতা দেখা দিতে পারে। কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও জটিলতা থাকতে পারে। দেখা যাচ্ছে, জমির মালিক বাবা, কিন্তু ছেলে সেই জমি চাষ করছে। কিন্তু ছেলে সুবিধাভোগী হতে পারছে না। এমন অনেক বিষয় রয়েছে। এসব চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পরের ধাপের কৃষক কার্ড বিতরণে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সূত্র বলছে, এ ধরনের সমস্যা যাতে পরে না হয়, সে জন্য প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষক নির্ণয়ে স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিসের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি এ কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা টাকার প্রভাবও মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে পাইলটিং পর্যায়ে নতুন চার উপজেলা যুক্ত হবে। আগামী জুন মাসে নতুন কার্ড তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কতগুলো কার্ড বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন এবং পরীক্ষামূলক। ফলে শুরুতে সমস্যা চিহ্নিত হওয়াটা ভালো। ইতিমধ্যে অল্প কিছু কার্ডের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সংখ্যাটি খুব বেশি নয়। পরের ধাপের কার্যক্রম যাতে জটিলতা ছাড়াই শুরু করা যায়, সে জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী জুন মাসে পরের পর্যায়ের কৃষক কার্ড তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, কার্ডধারী কৃষকের জন্য মিলবে মোট ১০টি সুবিধা। সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্ভাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ধারাবাহিকভাবে চার বছরের মধ্যে দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষক এ কার্ড পাবেন। প্রথম দফাতেই মৎস্যচাষি, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লবণচাষিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

জানা গেছে, কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটি গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি সভা করেছে। এতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই-মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কী ধরনের ভুল হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিগুলো দূর করে পাইলটিং পর্যায়ে কৃষি কার্ড তৈরি ও বিতরণের বিষয়টির আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে কৃষি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরে কৃষক নির্বাচন যাতে নির্ভুলভাবে হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রকৃত কৃষক নির্বাচন, কার্ড তৈরি ও বিতরণের কাজ পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ডেস্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ‘প্রি-পাইলটিং শেষে পাইলটিং করা হবে। পাইলটিং শেষে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। কৃষকের পুরো ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগতে পারে। তবে সরকারের এ কাজ হবে শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। পর্যায়ক্রমে সব কৃষকই এ কার্ড পাবেন।

এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় হ্রাস ও চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। কোথায় কোন ফসল ভালো হবে, সে অনুযায়ী কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হবে। চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে এমন এক উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, যাতে করে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয়। এ জন্য কৃষকদের ফসল চাষের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। --- সূত্র, দেশরূপান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়