দক্ষিণ এশিয়ায় রান্নায় বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিট লবণ অথবা ব্ল্যাক সল্ট। এটি শুধু রান্নার স্বাদ-ই বাড়ায় না, বহুদিন ধরেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের হিমালয় সংলগ্ন খনি থেকে এই লবণ সংগ্রহ করা হয় এবং এটি চাটনি, সালাদ, জুস, রাইতা, ফুচকা ও বিভিন্ন স্ট্রিট ফুডেও ব্যবহার হয়।
কী আছে বিট লবণে
বিট লবণে সোডিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে থাকে আয়রন সালফাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইড, যা এটির গাঢ় রং ও বিশেষ গন্ধের কারণ।
অনেকেরই ধারণা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিট লবণ সাধারণ লবণের তুলনায় ভালো। তবে এখন বাজারে পাওয়া অনেক বিট লবণেও সোডিয়ামের মাত্রা সাধারণ লবণের মতোই পাওয়া যাচ্ছে।
বিপদের নাম অতিরিক্ত ফ্লুরাইড
গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। বিট লবণে থাকতে পারে প্রতি মিলিয়নে প্রায় ২৫০ পিপিএম ফ্লুরাইড।
এক চা চামচ বিট লবণে ফ্লুরাইডের পরিমাণ হতে পারে ০.৫৬ গ্রাম, যা মানবদেহের নিরাপদ মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ২-৩ মিলিগ্রামের বেশি ফ্লুরাইড গ্রহণ করলে তা বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ফ্লুরাইড গ্রহণে—
• হাড় ও জোড়ায় ব্যথা
• দাঁতের ক্ষয়
• ত্বকে প্রদাহ
• ওজন কমে যাওয়া
• চুল ঝরে যাওয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ফ্লুরোসিস রিসার্চ অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় বিট লবণ খাওয়ার ফলে ফ্লুরাইড বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিট লবণ এবং তা দিয়ে তৈরি খাবার ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কিছু উপকার
বিট লবণ নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেলে উপকার মিলতে পারে। যেমন—
• এসিডিটি, গ্যাস ও হজমজনিত সমস্যা কমায়
• সেরোটোনিন হরমোন বৃদ্ধি করে স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে
• ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হতে পারে এবং
• স্ক্রাব হিসেবে ত্বকের মৃত কোষ দূর করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিট লবণ গ্রহণের বিষয়ে পুষ্টিবিদদের মত, প্রাপ্তবয়স্করা দিনে ২.৩ গ্রামের বেশি এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের ১.৫ গ্রামের বেশি লবণ না খাওয়াই উত্তম।
অতিরিক্ত বিট লবণ হাড়, রক্তসঞ্চালন ও পাকস্থলির ঝিল্লির ক্ষতি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: কালের কণ্ঠ