শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৩, ০৯:৫৭ সকাল
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৩, ০১:৫১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মদিনার আগে যে দেশে ইসলাম পৌঁছায়

মুফতি মুহাম্মদ তাসনীম: ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহর নেগাস। দেশটির উত্তর সীমান্তে এর অবস্থান। ছোট্ট এই শহর মুসলিম ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মক্কার নিপীড়িত মুসলিমরা সর্বপ্রথম এই শহরেই আশ্রয় নিয়েছিল বলে মনে করা হয়। মদিনা নগরীতে ইসলামের প্রসার ঘটার আগেই নেগাসে পৌঁছেছিল ইসলামের বাণী। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে যখন মক্কায় কোরাইশ সম্প্রদায়ের অত্যাচারের মাত্রা সহ্যের সব সীমা অতিক্রম করে, তখন নবী কারিম (সা.) সাহাবিদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাবশায় হিজরতের নির্দেশ দেন। নবী কারিম (সা.)-এর নির্দেশ ও নির্দেশনায় সাহাবিরা আবসিনিয়া বা হাবশায় হিজরত করেন। সাহাবিরা হাবশায় দুবার হিজরত করেন। সূত্র: দেশ রূপান্তর

প্রথম বার সেখানে ১২ জন এবং দ্বিতীয় বার ৮৮ জন হিজরত করেন। হাবশার তৎকালীন শাসক আসহামা বিন আবজার আন-নাজ্জাসি মুসলমানদের আশ্রয় দেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি ৬১০ থেকে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হাবশা শাসন করেন। ঐতিহাসিকদের দাবি, প্রাচীন আবসিনিয়া বা হাবশার আধুনিক পরিচয় হলো ইথিওপিয়া। তবে কেউ কেউ আধুনিক ইরিত্রিয়ার অপর নাম হাবশা বলে দাবি করেছেন।

সাহাবিদের বেশির ভাগ মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ফিরে গেলেও তাদের কেউ কেউ আবার হাবশায় স্থায়ী হন। দাবি করা হয়, নেগাস শহরে সাহাবিদের সমাধি রয়েছে। এই শহরেই অবস্থিত আফ্রিকার প্রাচীনতম মসজিদ ‘নাজ্জাসি মসজিদ।’ আফ্রিকায় হিজরতকারী সাহাবিরা এই মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মহানুভব বাদশাহর নামে এর নাম দেন।

এই মসজিদের পাশেই রয়েছে ‘সাহাবা সড়ক।’ ইথিওপিয়ার মুসলিমদের কাছে এই মসজিদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নাজ্জাসি মসজিদ আফ্রিকার সবচেয়ে পর্যটকপ্রিয় স্থানগুলোর একটি। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার মানুষ নাজ্জাসি মসজিদ পরিদর্শন করে। তবে মসজিদের বর্তমান কাঠামো নির্মিত হয়েছে আধুনিক যুগেই। ২০১৮ সালে তুর্কি দাতব্য সংস্থার সহযোগিতায় এখানে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়। মসজিদ ছাড়াও এখানে একটি দর্শনার্থী কক্ষ, পাঠাগার ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়। তবে ২০২১ সালের সংঘাতের সময় নাজ্জাসি মসজিদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিনার ধ্বংস হয়ে যায় এবং গম্বুজ ধসে পড়ে। চলতি বছরের আগস্টে ইথিওপিয়া সফরের সময় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম ঈসা আরও বৃহৎ পরিসরে নাজ্জাসি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেন। এটা হবে আধুনিক যুগে মসজিদের চতুর্থ সংস্কার কার্যক্রম।

প্রাচীন মসজিদের আয়তন ২০০ বর্গমিটারের চেয়ে বড় ছিল না। মসজিদ কমপ্লেক্সের ডান দিকে ছিল একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাঁ দিকে ছিল দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অফিস ও গুদামঘর। মসজিদের অদূরে অবস্থিত নগরপ্রাচীর ও প্রবেশদ্বার এই গ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে। মসজিদ থেকে সামান্য দূরে নাজ্জাসি আবাসস্থল মেকেলি শহর অবস্থিত। সেখানে নাজ্জাসির কবর রয়েছে। আবিসিনিয়ার বাদশাহ আছহামা নাজ্জাসি ৯ম হিজরিতে মারা যান। তিনি খ্রিস্টানদের বাদশাহ ছিলেন, কিন্তু নিজে মুসলমান ছিলেন। সে কারণ তার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে জামাতের সঙ্গে তার গায়েবানা জানাজা আদায় করেন এবং বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জানাজা পড়। যিনি তোমাদের দেশ ছাড়া অন্য দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন।’-ইবনে মাজাহ: ১৫৩৭

ইথিওপিয়ার অধিবাসীরা এখনো তাকে পুণ্যবান বাদশাহ নাজ্জাসি নামে স্মরণ করে। তার কবরের পাশে অবস্থিত ১৫টি কবরকে সাহাবিদের কবর বলে দাবি করা হয়। আবার কারও মতে, মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা কবরগুলোই সাহাবিদের কবর।

এইচএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়