শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:২৫ রাত
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তাহাজ্জুদ দোয়া কবুলের মহিমান্বিত সময়

প্রতীকী ছবি

ধর্ম ডেস্ক: তাহাজ্জুদ; অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপূর্ণ নামাজের নাম। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাজ নিয়মিত পড়তেন। মর্যাদা ও ফজিলতের দিক থেকে ফরজ নামাজের পরই তাহাজ্জুদের অবস্থান। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ। তাহাজ্জুদ (تهجد) শব্দটির মূলধাতু (هجود) যার অর্থ ঘুমানোও হয় এবং ঘুম থেকে জেগে উঠে রাত্রি জাগরণও হয়। এখানে দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য। মু’জামুল ওয়াসীত্বে বলা হয়েছে, ‘তাহাজ্জুদ মানে হলো নামাজ বা অন্যান্য নফল ইবাদতের জন্য রাত্রি জাগরণ করা।

তাহাজ্জুদের ফযিলত:-

মহান আল্লাহ তাহাজ্জুদের গুরুত্ব কুরআনুল কারীমে এভাবে তুলে ধরেছেন, ‘ যে ব্যক্তি রাতের বেলায় সাজদাহরত বা দাঁড়ানো থাকে, পরকালের ভয় করে এবং নিজ রবের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান যে এমনটি করে না? বলুন যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? বস্তুত বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। (সূরা আয্ – যুমার ৯)

এখানে আল্লাহ কিয়াম ও তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তিকে তাহাজ্জুদ পড়ে না এমন ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করতে নিষেধ করেছেন।

এছাড়াও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় কন্ঠে তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের জন্য অনেক সুসংবাদ বিধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা এটা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল বান্দাদের অভ্যাস। আর এটা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা, এবং পাপের প্রতিবন্ধক।

তিনি আরো বলেন:- নিশ্চয় জান্নাতের মধ্যে এমন কতিপয় সুন্দর প্রাসাদ রয়েছে, যার বাহিরের দৃশ্যগুলো ভিতর থেকে দেখা যায়। এবং ভিতরের দৃশ্যগুলো বাহির থেকে দেখা যায়। এক বেদুইন দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই প্রাসাদগুলো কার জন্য? তিনি বললেন যার কথা নরম। ক্ষুধার্তকে খাদ্য প্রদান করে। নিয়মিত নফল রোজা রাখে এবং রাতের বেলায় মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন নামাজ পড়ে।

তাহাজ্জুদ পড়ার সময়:-

তাহাজ্জুদ হলো রাত্রিকালীন নামাজ। এটি এশার নামাজ আদায় করার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া যায়। তবে তাহাজ্জুদ অর্ধ বা দ্বিপ্রহরের সময় পড়া ভালো সর্বোত্তম হলো শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়া।

তাহাজ্জুদের রাকাত:-

তাহাজ্জুদ সর্বনিম্ন দুই রাকাত আর সর্বোচ্চ আট রাকাত। এর বেশীও পড়া বৈধ। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চার রাকাত কখনো আট রাকাত কখনো ১২ রাকাত পড়তেন। যদি কেউ রাতে এশার পর থেকে শেষ রাতের মধ্যে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তাহলে সে তাহাজ্জুদের সওয়াব পাবে। হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয় সে হবে তাহাজ্জুদের ফযিলতের অধিকারী।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম:-

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বা নিয়ম নেই। সূরা ফাতেহার সঙ্গে যে কোন সূরা মিলিয়ে এ নামাজ পড়া যায়। দীর্ঘ বা লম্বা কেরাতে তাহাজ্জুদ পড়া উত্তম। তাই আমাদেরও বড় সূরা মুখস্থ করে, তা দিয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিৎ।

জ্ঞাতব্য:-

তাহাজ্জুদ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যার মাধ্যমে একজন মু’মিন নিজেই বুঝতে পারে, সে আসলেই আল্লাহকে ভালোবাসে কি— না। বা আল্লাহ তাকে ভালোবাসে কি— না। শুধু ফেবুতে ইসলামিক পোস্টে লাইক দিয়ে অথবা গাড়ির বাম্পারে ইসলামিক স্টিকার লাগালেই আল্লাহকে ভালোবাসা হয় না। বরং রাতের শেষ অংশে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে একান্তে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করাই হলো তাঁকে ভালোবাসা।

(মুহাম্মদ আল আমীন রাহমানী, আলেম, লেখক ও খতীব)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়