যদি কোনো হারামের সংশ্লেষ না থাকলে আইবিএফ বা টেস্টটিউব বেবি নেওয়া ইসলামি শরিয়াহ অনুমোদিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। আইবিএফ বা টেস্টটিউব বেবির যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি, এটা ইসলাম সম্মত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো দম্পতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যখন সন্তান হয় না, তারা যদি টেস্টটিউব প্রক্রিয়ায় বেবির বাবা-মা হতে চান শরীয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে মৌলিকভাবে সেটা নিষিদ্ধ না। তবে শর্ত হলো, সেখানে শরীয়াহ পরিপন্থি কোনো কিছু হতে পারবে না।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের শুক্রাণু ডিম্বাণু কালেক্ট করা হবে। এখানে অন্য কারো শুক্রাণু ডিম্বাণু কালেক্ট করা হলে সেটা পরিষ্কার জেনা হবে এবং হারাম হবে। এবং এই ডিম্বাণু শুক্রাণু কালেকশন করতে গিয়ে হস্তমৈথুন বা এ জাতীয় কোনো গুনাহের ওপর ভরসা করা যাবে না বা গুনাহর উপর নির্ভর করা যাবে না। বরং স্বামী স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে যদি ডিম্বাণু শুক্রাণু কালেক্ট করা হয় সেটা জায়েজ।
আহমাদুল্লাহ বলেন, এই শুক্রাণু ডিম্বাণু কালেক্ট করতে গিয়ে যদি সতরের অংশটা নার্স বা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট অন্যদের সামনে উন্মুক্ত করতে হয় সেটা হারাম। সন্তানের বাবা-মা হতে গিয়ে আপনি একটা হারামে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। লিগাল ওয়েতে শরিয়াহর মধ্যে থেকে আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দিলে আলহামদুলিল্লাহ। নাহলে আল্লাহর ফায়সালাকে মেনে নেবেন।
যদি আপনার সেটা করতে না হয় যদি কোনো নার্স বা ট্রিটমেন্ট রিলেটেড কারো সামনে সতর উন্মুক্ত করতে না হয় বরং শুক্রাণু ডিম্বাণু কালেক্ট করার কাজটা স্বামী স্ত্রী উভয়ে করতে পারেন এবং এ জাতীয় কোনো হারাম, যেগুলো কথা বললাম বা আরও কোনো হারাম থাকলে সেগুলো যদি পরিহার করে কেউ আইবিএ পদ্ধতিতে সন্তানের বাবা হতে চান নির্দ্বিধায় শরিয়াহ সেটাকে অনুমোদন করে। মৌলিকভাবে নিষেধ না। তবে কোনো হারামে যেন লিপ্ত হতে না হয়।