শিরোনাম
◈ হরমুজ প্রণালিতে নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করছে ইরান, এক জাহাজ থেকেই ২০ লাখ ডলার টোল আদায় ◈ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইফতার আয়োজন ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ◈ ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীনের তাড়া নেই যেই পাঁচ কারণে ◈ ইরানকে ঘিরে নতুন কৌশল: পাইপলাইন পরিকল্পনার কথা ইসরায়েলের ◈ ঈদের আগে প্রবাসী আয়ে চাঙা রিজার্ভ ◈ এপ্রিলে দিল্লি সফরে যেতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ◈ পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল আদায়ে রেকর্ড ◈ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা, দেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান ◈ দূতাবাসের উদ্যোগে বাহরাইন থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন ২৮২ প্রবাসী ◈ ৯০ কিমি গতির কালবৈশাখীর তাণ্ডব ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়, বজ্রপাতে স্কুলছাত্র নিহত

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০১ দুপুর
আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবরের গাছের ফুল-ফল খাওয়া, চারপাশে গাছ লাগানো ইসলাম কী বলে?

কবরস্থানে লাছ লাগালে জায়গাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেন তা জঙ্গলে পরিণত না হয়। পরিষ্কার করার সময় সরাসরি কবরের ওপরের বা কবরের সঙ্গে লাগানো জায়গার হয় এবং তাজা ঘাস হয়- তাহলে তা না কাটাই উত্তম। কেননা, সরাসরি কবরের ওপরের ও তার আশপাশের তাজা ঘাস বিনা প্রয়োজনে কাটা মাকরূহে তানজিহি তথা অনুত্তম।

কবরের চারদিকে গাছ কিংবা ফুল গাছ লাগানো জায়েজ, এটা মৌলিকভাবে নিষেধ নয়। সৌন্দর্য ও উত্তম পরিবেশের জন্য কবরের আশপাশে গাছ ও ফুলগাছ লাগানো যেতে পারে। তবে কবরের চারদিকে ফুল গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য যদি মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাহলে এটা নিষিদ্ধ।

কবরস্থানের জন্য ওয়াকফকৃত জমি খালি পড়ে থাকলে সেটা অন্যকোনো কাজে ওই জায়গা ব্যবহার করা নাজায়েজ। তবে সেখানে সেখানে বিভিন্ন রকমের ফুল ও ফলের গাছ লাগানো জায়েজ। কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে গাছ লাগানোর কারণে যেন লাশ দাফনে কোনো অসুবিধা না হয় এবং এই কাজের জন্য কবরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে না হয়।

সরকারি বা ওয়াকফকৃত কবরস্থানের গাছ, কাঠ, ফুল, ফলসহ সকল উৎপাদন কবরস্থানের নিজস্ব সম্পদ। কবরস্থান পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের দায়িত্ব এগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ কবরস্থানের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের কাজে লাগানো।

সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো কবরস্থানের গাছের ফুল ফল ও সবার সম্পদ নয় এবং বিনামূল্যে নেওয়া জায়েজ নেই।

কবরস্থান যদি কারো ব্যক্তি-মালিকানাধীন হয়, তাহলে সেখানকার কোনো গাছের ফুল ও ফল নিতে হলে মালিকের অনুমতি/ সম্মতিক্রমে নিতে হবে অথবা মালিক যদি কবরস্থানে হওয়া গাছের ফুল ও ফল বিক্রি করে তাহলে কিনে নেওয়া যাবে।

কবরস্থানের গাছের ফুল-ফলের ব্যাপারে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলে কিছু কুসংস্কার/ ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন কবরস্থানের গাছের ফুল-ফল ব্যবহার করলে বা খেলে কোনো অঘটন ঘটতে পারে বা তার শারীরিক-মানসিক ক্ষতি হতে পারে ইত্যাদি।

ইসলামের দৃষ্টিতে এ সব ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। কবরস্থানের গাছের ফুল ও ফল অন্য সব জায়গার গাছের ফুল-ফলের মতোই ব্যবহার করা যাবে, খাওয়া যাবে। তাতে ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আরেকটি কথা, কবরে খেজুর গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হজরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরে আজাব হচ্ছে জানতে পেরে একটি খেজুর গাছের ডালকে দুই টুকরা করে কবর দুটিতে গেড়ে দেন। -সহিহ বোখারি: ১/১৮২

অন্য বর্ণনায় আছে, সাহাবি বুরাইদা আসলামি (রা.) মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যান, যেন তার কবরে খেজুর গাছের দুটি ডাল গেড়ে দেওয়া হয়। -সহিহ বোখারি: ১/১৮১

এসব বর্ণনা দ্বারা কবরে খেজুর বা অন্যকোনো গাছের ডাল গেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তাই কেউ চাইলে মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর কবরের ওপর এক দুটি ডাল গেড়ে দিতে পারে। কিন্তু কবরের চার কোণায় ডাল দেওয়া আবার চারজন ব্যক্তি দ্বারা একাজ করানো দলীলবিহীন অতিরঞ্জিত কাজ। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়