শিরোনাম
◈ এক বছরে নতুন করে দরিদ্র বেড়েছে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি, চাকরি হারাচ্ছেন নারীরা ◈ সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, জারি নতুন নির্দেশনা ◈ প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষরের অভিযোগ ◈ ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে অযোগ্য হতে পারেন: মার্কিন দূতাবাস ◈ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, জেনে নিন বুকিংয়ের নিয়ম ◈ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেট্রোরেল লাইনে কুকুর ঢুকে বন্ধ ট্রেন চলাচল, পরে স্বাভাবিক ◈ ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০১ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবরের গাছের ফুল-ফল খাওয়া, চারপাশে গাছ লাগানো ইসলাম কী বলে?

কবরস্থানে লাছ লাগালে জায়গাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেন তা জঙ্গলে পরিণত না হয়। পরিষ্কার করার সময় সরাসরি কবরের ওপরের বা কবরের সঙ্গে লাগানো জায়গার হয় এবং তাজা ঘাস হয়- তাহলে তা না কাটাই উত্তম। কেননা, সরাসরি কবরের ওপরের ও তার আশপাশের তাজা ঘাস বিনা প্রয়োজনে কাটা মাকরূহে তানজিহি তথা অনুত্তম।

কবরের চারদিকে গাছ কিংবা ফুল গাছ লাগানো জায়েজ, এটা মৌলিকভাবে নিষেধ নয়। সৌন্দর্য ও উত্তম পরিবেশের জন্য কবরের আশপাশে গাছ ও ফুলগাছ লাগানো যেতে পারে। তবে কবরের চারদিকে ফুল গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য যদি মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাহলে এটা নিষিদ্ধ।

কবরস্থানের জন্য ওয়াকফকৃত জমি খালি পড়ে থাকলে সেটা অন্যকোনো কাজে ওই জায়গা ব্যবহার করা নাজায়েজ। তবে সেখানে সেখানে বিভিন্ন রকমের ফুল ও ফলের গাছ লাগানো জায়েজ। কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে গাছ লাগানোর কারণে যেন লাশ দাফনে কোনো অসুবিধা না হয় এবং এই কাজের জন্য কবরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে না হয়।

সরকারি বা ওয়াকফকৃত কবরস্থানের গাছ, কাঠ, ফুল, ফলসহ সকল উৎপাদন কবরস্থানের নিজস্ব সম্পদ। কবরস্থান পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের দায়িত্ব এগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ কবরস্থানের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের কাজে লাগানো।

Advertisement

সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো কবরস্থানের গাছের ফুল ফল ও সবার সম্পদ নয় এবং বিনামূল্যে নেওয়া জায়েজ নেই।

কবরস্থান যদি কারো ব্যক্তি-মালিকানাধীন হয়, তাহলে সেখানকার কোনো গাছের ফুল ও ফল নিতে হলে মালিকের অনুমতি/ সম্মতিক্রমে নিতে হবে অথবা মালিক যদি কবরস্থানে হওয়া গাছের ফুল ও ফল বিক্রি করে তাহলে কিনে নেওয়া যাবে।

কবরস্থানের গাছের ফুল-ফলের ব্যাপারে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলে কিছু কুসংস্কার/ ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন কবরস্থানের গাছের ফুল-ফল ব্যবহার করলে বা খেলে কোনো অঘটন ঘটতে পারে বা তার শারীরিক-মানসিক ক্ষতি হতে পারে ইত্যাদি।

ইসলামের দৃষ্টিতে এ সব ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। কবরস্থানের গাছের ফুল ও ফল অন্য সব জায়গার গাছের ফুল-ফলের মতোই ব্যবহার করা যাবে, খাওয়া যাবে। তাতে ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আরেকটি কথা, কবরে খেজুর গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হজরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরে আজাব হচ্ছে জানতে পেরে একটি খেজুর গাছের ডালকে দুই টুকরা করে কবর দুটিতে গেড়ে দেন। -সহিহ বোখারি: ১/১৮২

অন্য বর্ণনায় আছে, সাহাবি বুরাইদা আসলামি (রা.) মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যান, যেন তার কবরে খেজুর গাছের দুটি ডাল গেড়ে দেওয়া হয়। -সহিহ বোখারি: ১/১৮১

এসব বর্ণনা দ্বারা কবরে খেজুর বা অন্যকোনো গাছের ডাল গেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তাই কেউ চাইলে মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর কবরের ওপর এক দুটি ডাল গেড়ে দিতে পারে। কিন্তু কবরের চার কোণায় ডাল দেওয়া আবার চারজন ব্যক্তি দ্বারা একাজ করানো দলীলবিহীন অতিরঞ্জিত কাজ। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।