শিরোনাম
◈ নির্বাচনি বাটোয়ারা মেনে নিয়ে এখন বিরোধিতার নাটক করা বন্ধ করেন: মাহফুজ আলম ◈ গায়কসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী কলকাতায় গ্রেপ্তার ◈ গেজেট প্রকাশ: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, ভেঙে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ◈ প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব ও প্রটোকল অফিসার নিয়োগ ◈ বেনাপোলে পাচারের শিকার ২৮ শিশুর স্বদেশ প্রত্যাবাসন ◈ এবার জামায়াতের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর নামে পাল্টা মামলা ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের স্পিকার ◈ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ বিএনপি শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের এখন কী হবে ◈ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হলেন ড. খলিলুর রহমান

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের শপথের শুরুতে কুরআন থেকে কী তিলাওয়াত করা হলো?

জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হলো সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ। এটি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা এক নৈতিক ও আমানতের অঙ্গীকার। তাই শপথ অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহি ও অঙ্গীকার রক্ষার শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াত করা হয়েছে সুরা নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত—যা অঙ্গীকার পূরণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা বহন করে।

শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে তিলাওয়াত করা হয় পবিত্র কুরআনের সুরা নাহলের ৯১ নং আয়াত। তাহলো—

وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ

‘তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকারে আবদ্ধ হও, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।’ (সুরা নাহল: আয়াত ৯১)

আয়াতের তাৎপর্য

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি পূরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। যখন কেউ শপথ করে, তখন সে আল্লাহকে সাক্ষী ও জামিন করে। ফলে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্বভঙ্গও বটে।

বিশেষভাবে এখানে মানুষের পারস্পরিক চুক্তি ও সামাজিক অঙ্গীকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে— ব্যক্তিগত কসমের বিষয় নয়। অর্থাৎ জনগণের সঙ্গে বা একে-অন্যের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই।

ব্যক্তিগত কসমের বিধান

যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর নামে কসম করে কোনো কাজ করার বা না করার অঙ্গীকার করে, পরে যদি বুঝতে পারে বিপরীত কাজটিই তার জন্য কল্যাণকর—তবে সে কল্যাণকর কাজটি করবে এবং শপথ ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করবে। এমন ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গ করাই মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ، إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ، فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ، وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ

‘হে আবদুর রহমান ইবনে সামুরা! তুমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাও, তবে তোমার শপথের কাফফারা আদায় কর এবং যা উত্তম তা-ই কর।’ (বুখারি ৬৬২২, মুসলিম ১৬৫২)

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন—

وَإِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ، فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي

‘আল্লাহর কসম! আমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি তার বিপরীতে উত্তম কিছু দেখি, তবে আমি উত্তম কাজটিই করি এবং শপথের কাফফারা আদায় করি।’ (বুখারি ৬৬২৩, মুসলিম ১৬৪৯)

কুরআনের আরও নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَجْعَلُوا اللَّهَ عُرْضَةً لِأَيْمَانِكُمْ أَنْ تَبَرُّوا وَتَتَّقُوا وَتُصْلِحُوا بَيْنَ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

‘তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া অবলম্বন এবং মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন থেকে বিরত থাকার অজুহাত হিসেবে আল্লাহর নামে শপথ করো না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’  (সুরা বাকারা: আয়াত ২২৪)

এ আয়াতে শপথকে কল্যাণকর কাজের প্রতিবন্ধক বানাতে নিষেধ করা হয়েছে।

শপথের আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা

শপথ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াতকৃত সুরা নাহলের ৯১ নম্বর আয়াতে মানুষের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার বা চুক্তির কথা বলা হয়েছে—যা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের অঙ্গীকার রক্ষার ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশ দিয়েছেন।

এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে— তারা দেশের জনগণের সঙ্গে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হচ্ছেন, তা শুধু সাংবিধানিক নয়; বরং নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। জনগণের আস্থা রক্ষা এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রকৃত শপথের সফলতা।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়