সাজ্জাদুল ইসলাম: [২] ইসলামী স্টেট (আইএস) বা দায়েশ গত বৃহস্পতিবার ইরানের কেরমান শহরে চালানো ভয়াবহ জোড়া বোমা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের লক্ষ্যে গঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ আমেরিকা এবং ইসরাইল শাসক গোষ্ঠীর প্রক্সি এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। সূত্র: পার্স টুডে
[৩] বুধবার সন্ধ্যায় যখন ইরানের জনগণ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলেইমানি এবং তার সহযোদ্ধাদের ৪র্থ শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন করছিল তখন কেরমানে শহীদ গুলজারের দিকে যাওয়ার রাস্তায় ২টি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ৮৯ জন নিহত ও ২৮৬ জন আহত হন।
[৪] এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলের পরিস্থিতি বিশেষ করে গাজার যুদ্ধ এবং সেখানে যোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর পরাজয় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও তার প্রধান মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসী হামলায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইরান দোষারোপ করছে। তবে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব উভয়েই অতীতের মতো এ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত খাকার কথাও অস্বীকার করেছে।
[৫] মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার কেরমানে বলেছেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই ইরানে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত নয় এবং এই ঘটনায় ইসরায়েল জড়িত আছে বলে বিশ্বাস করারও কোনো কারণ নেই। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারিও তার বুধবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরানে বিস্ফোরণ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই এবং আমাদের মনোযোগ রয়েছে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিকে।
[৬] আমেরিকা প্রতিরোধ অক্ষের মোকাবিলা করার জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের প্রতিষ্ঠা ও তাদের লালন পালনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া ইরাক, সিরিয়া এবং তারপরে আফগানিস্তানে দায়েশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়েছে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতা আমেরিকা তার আরব মিত্ররা। আইএসসহ সন্ত্রাসীদের ব্যাপক আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে তারা।
[৭] প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এক নির্বাচনী বক্তৃতায় বলেছিলেন, ওবামা ও হিলারি বিশ্বাসযোগ্য নন এবং আইএস সৃষ্টিতে তাদের হাত রয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনও আইএস সৃষ্টিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামার হাত ছিল বলে দাবি করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণাকারী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রও বলেছেন, আইএস সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে।
[৮] অন্যদিকে, যদিও ইহুদিবাদী ইসরাইল অতীতের মতো নীরবতা বা অস্বীকারের মাধ্যমে কেরমানে সন্ত্রাসী হামলায় নিজেদের ভূমিকা অস্বীকার করার চেষ্টা করছে তবে ইরান এবং অন্যান্য দেশকে নিরাপত্তাহীন করতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে ইসরাইলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সব সময় মার্কিন ও ইসরায়েলের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
এসআই/এনএইচ