আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়। বড় এই পরাজয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার দল পরিবর্তন করে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে ভ্যান্স বলেন, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রধান কারণ সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া নয়। বরং আগের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে সমর্থন করা ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার দলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ভোটারদের অসন্তোষের চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। সেগুলো হলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক।
‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ’—বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন ভ্যান্স। ইরানের সঙ্গে সংঘাত যে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় বোঝা হয়ে উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বক্তব্যকে তার অন্যতম স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে আলোচনার কথাও তুলে ধরেছেন ভ্যান্স। তিনি জানান, সমীক্ষার ফল দেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফল নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি। জবাবে ওই বিশ্লেষক বলেছিলেন, সমীক্ষার তুলনায় ফল কিছুটা ভালো হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক ক্ষুব্ধ এবং এবার অন্য দলকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ওই বিশ্লেষকের পূর্বাভাসই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে বলে স্বীকার করেন ভ্যান্স। উদাহরণ হিসেবে ফ্লোরিডার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে রিপাবলিকান ভোটারের সংখ্যা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি ছিল। অর্থাৎ, সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির ঘাটতি নয়, বরং ভোটের পছন্দ বদলে যাওয়াই দলটির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভ্যান্স আরও জানান, নির্বাচনের আগে জেনেরিক ব্যালটের সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ১৩ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পূর্বাভাস পেয়েছিল রিপাবলিকানরা। এই সমীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পরিবর্তে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকা উচিত, তা জানতে চাওয়া হয় ভোটারদের কাছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই ফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। নির্বাচনের আগে তিনি ভোটকে নিজের প্রেসিডেন্সির ওপর গণভোট হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন সমর্থকদের।
নির্বাচনে জয়ের ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে বাড়তি ক্ষমতা পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, সরকারি কর্মকর্তাদের তলব এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি ও অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন আরও বেশি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।