শিরোনাম
◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন ◈ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ দুই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে বার্সেলোনা শিবিরে জোড়া ধাক্কা ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ, জানালেন শামা ওবায়েদ ◈ কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ◈ টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩, আরও যে তথ্য সামনে এসেছে ◈ ফ্রান্সে স্কুলের আন্দোলন যেভাবে রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হলো ◈ সমস্যাটা তো হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ◈ বিরোধিতার নামে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা: তারেক রহমান ◈ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, ইশরাকের বিষয়ে আরও যা বললেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৯ রাত
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউরোপে তৈরি হচ্ছে ‘স্পঞ্জ সিটি’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কখনো অতিবৃষ্টি, আবার কখনো দীর্ঘ খরার মুখে পড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন শহর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর নগর পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে শহরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘স্পঞ্জ ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলা হচ্ছে।

স্পঞ্জ সিটি বা ‘স্পঞ্জ শহর’ এমন একটি নগর পরিকল্পনা, যেখানে বৃষ্টির পানি দ্রুত নালা দিয়ে বের করে না দিয়ে মাটি, জলাভূমি, জলাধার ও সবুজ স্থানের মাধ্যমে শোষণ ও সংরক্ষণ করা হয়। এতে অতিবৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি খরার সময় সংরক্ষিত পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা ভূদৃশ্য স্থপতি কংজিয়ান ইউ ২০০০-এর দশকের শুরুতে এ ধারণা তুলে ধরেন। তার পরিকল্পনায় পুকুর, জলাভূমি, সবুজ ছাদ এবং গাছপালাসমৃদ্ধ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি গরমের সময় শহরের তাপমাত্রা কমাতেও সহায়তা পাওয়া যায়।

২০১২ সালে বেইজিংয়ে ভয়াবহ বন্যায় ৭৯ জনের মৃত্যুর পর চীনে এ ধারণা গুরুত্ব পায়। ২০১৪ সালে দেশটি স্পঞ্জ সিটি উন্নয়নের জাতীয় নির্দেশিকা গ্রহণ করে। পরের বছর ১৬টি শহরে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের ৮০ শতাংশ নির্মিত নগরাঞ্চলকে স্পঞ্জ সিটির বৈশিষ্ট্যের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

Advertisement

ইউরোপেও এ ধরনের উদ্যোগের নজির রয়েছে। সুইডেনের মালমো শহরের আগস্টেনবর্গ এলাকায় সবুজ ছাদ, জলাভূমি ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৭ ও ২০১৪ সালের বড় ঝড়ের সময় এলাকাটিতে অন্য অনেক এলাকার তুলনায় বন্যার ক্ষতি কম হয়েছিল।

নেদারল্যান্ডসের রটারডামে বেন্টহেমপ্লেইন নামের একটি খোলা স্থান স্বাভাবিক সময়ে খেলাধুলা ও বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভারী বৃষ্টির সময় এর তিনটি জলাধার প্রায় ১৭ লাখ লিটার পানি ধরে রাখতে পারে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনেও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বাগান ও ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরি করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের পানি সহনশীলতা কৌশলেও স্পঞ্জ সিটি বাড়ানো এবং জলাভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ‘স্পঞ্জ ফ্যাসিলিটি’ উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পুরোনো ভবন, ঘনবসতিপূর্ণ রাস্তা এবং মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন অবকাঠামোর কারণে ঐতিহাসিক শহরগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছোট ছোট উঠানের পাকা অংশ সরানো, বেশি গাছ লাগানো এবং সবুজ ছাদ তৈরি করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পঞ্জ সিটি বন্যা ও খরার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হলেও এটি এককভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অতিবৃষ্টিতে মাটি পানিতে সম্পূর্ণ ভিজে গেলে এবং জলাধার পূর্ণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত পানি জমার ঝুঁকি থেকেই যায়।

তাই স্পঞ্জ সিটির পাশাপাশি প্রচলিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, বড় জলাধার এবং বন্যার পানি সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প পথও প্রয়োজন। সূত্র: ইউরো নিউজ