শিরোনাম
◈ টেকনাফে আবারও সক্রিয় মানবপাচার চক্র, অপহরণ করে সাগরপথে পাচার হচ্ছে মানুষ! ◈ ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করল ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ ◈ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ যুক্তরাজ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে এক লাখ তরুণকে নিয়োগ দেয়া হবে ◈ ইয়েমেনে হুথিবিরোধী যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন সামরিক সহযোগিতা ◈ ৭৬ মি‌নিট পর্যন্ত ১ গো‌লে পি‌ছি‌য়ে থে‌কে ৩-১ এ জিত‌লো পিএস‌জি ◈ দিয়াসের হ্যাটট্রিক, লাইপজিগকে ৬-১ গো‌লে হারা‌লো বায়ার্ন মিউনি‌খ ◈ চীনের প্রভাবের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক চুক্তি এগিয়ে নিতে চায় জাপান! ◈ লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ ◈ রিয়াল বে‌তিস‌কে ৫-২ গোলে হারা‌লো বার্সেলোনা

প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ দুপুর
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ইয়েমেনে হুথিবিরোধী যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন সামরিক সহযোগিতা

দ্য গার্ডিয়ানক: য়েমেন সংঘাতে পুনরায় প্রবেশে সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর অংশ হিসেবে তারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়ন করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে এমনটাই জানিয়েছে ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্র। বিপরীতে, হুতিবিরোধী এই বাহিনীকে বিমান সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর দূরত্ব যে ঘুচতে শুরু করেছে, এই নতুন সহযোগিতা চুক্তিটি তারই প্রথম বাস্তব লক্ষণ। যদিও এর প্রধান কারণ হলো পুরো ইয়েমেনজুড়ে হুতি বাহিনীর অগ্রাভিযান সব প্রতিবেশি উপসাগরীয় দেশের শাসকদেরই একযোগে শঙ্কিত করে তুলেছে।

সৌদি আরব প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ হুতিদের হামলায় তাদের বিমানবন্দরগুলো এবং কিছু জ্বালানি অবকাঠামো অচল হয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনীগুলো—যাদের মূল অংশটি ‘জায়ান্ট ব্রিগেডের’ অন্তর্ভুক্ত—আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং অর্থায়নও পেয়েছে। বিশৃঙ্খল হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী হিসেবে বিবেচিত এই জায়ান্ট ব্রিগেড। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত গত জানুয়ারিতে ইয়েমেন থেকে তাদের সব সামরিক সম্পদ প্রত্যাহার করে এবং আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।

এদিকে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবির জবাবে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত—কেউই কিছু জানায়নি। গণভোটটি অনুষ্ঠিত হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যকার সেই পুরোনো সীমান্ত ফিরে আসত, যখন ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র ছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি এখনো তাদের বাহিনীকে পুরোনো দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে গিয়ে লড়াই করার অনুমতি দেয়নি। তবে সৌদি আরব যদি গণভোটের পক্ষে সুস্পষ্ট সম্মতি দেয়, তবে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী সানার দখল থেকে হুতি বাহিনীকে হটিয়ে দিতে একটি পাল্টা আক্রমণ শুরুর ঘোষণা দেয়। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে তাদের এই সামরিক অভিযান এখন পর্যন্ত সীমিত সাফল্যের মুখ দেখেছে। তাছাড়া এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি এবং সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণজুড়ে ক্ষমতা দখল এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের ঘোষণার একটি ব্যর্থ চেষ্টার পর জুবাইদি আবুধাবিতে পালিয়ে যান। এর জবাবে সৌদির পক্ষ থেকে এসটিসি বাহিনীর জন্য পাঠানো আমিরাতের অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালানো হয়।

এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে তাদের সমস্ত কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় এবং সৌদি-সমর্থিত সরকার জানায় যে তারা জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করবে। সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা শেষ পর্যন্ত পুরোনো দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা অপর দুই শহর তাইজ ও মারিব দখল করতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দিতে তিনি পার্লামেন্টের একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না, বরং কেবল সৌদি আরবকে রক্ষা করবে। অনুবাদ: আজকের পত্রিকা