শিরোনাম
◈ সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার যে ৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয় ◈ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শান্তিতে আছি, প্রধানমন্ত্রীকে বললেন হিন্দু নেতারা ◈ ডি মারিয়ার জোড়া গোল, রোসারিওর সহজ জয় ◈ আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ইনিংস ঘোষণা, লিটনের সেঞ্চুরি, জয় দেখ‌ছে টাইগাররা ◈ ২৫ বছরের ক্ষমতার পর মোদির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ◈ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় ১০ নেত্রী ◈ মেয়ের নিখোঁজে বাবা-মায়ের উদ্বেগহীনতা সমাজের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ◈ রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ, বিকল্প হিসেবে দাম্মাম ও মদিনায় পাঠানো হবে যাত্রীদের: বিমানমন্ত্রী ◈ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর চেয়েও বেশি আয় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রদের ◈ যে কারণে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের দোকান বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৫ বিকাল
আপডেট : ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দিল্লিতে ১৩৩ ধারা জারি, কী এই ধারা ও কেন প্রয়োগ করা হয়?

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে গত তিনদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা এবং নাগরিকদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় ১৩৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এর অধীনে দিল্লিতে অনুমতিহীন সমাবেশ ও প্রতিবাদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। এ সময় প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়।

পুলিশের এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভের আগে ও পরে অনেক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দুই দিনের বিক্ষোভের পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ১৩৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ।

Advertisement

কী এই ১৩৩ ধারা

ভারতের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৩৩ ধারা মূলত জনসাধারণের দুর্ভোগ বা উপদ্রব দূর করার জন্য ব্যবহৃত হতো। জনসাধারণের চলাচলে বাধা, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কিংবা নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারতেন।

এই ধারার আওতায় সরকারি রাস্তা বা জলপথে অবৈধ বাধা সরানো, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যবসা বন্ধ করা এবং বিপজ্জনক ভবন, স্থাপনা বা জীবজন্তুর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি দূর করার নির্দেশ দেওয়া যেত।

কীভাবে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়?

কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যাটি দূর করার নির্দেশ দিতে পারেন। পাশাপাশি, কেন ওই নির্দেশ চূড়ান্ত করা হবে না, সে বিষয়ে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তবে উল্লেখ্য, ভারতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হয়েছে। পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারার সমতুল্য বিধান বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৫২ ধারায় রয়েছে। আর জরুরি পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমায়েত বা বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে পুরোনো ১৪৪ ধারার সমতুল্য বর্তমান ১৬৩ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।

বিরোধীদের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। এতে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস এই মিছিলের নাম দিয়েছে ‘চলো দিল্লি’।

গত সপ্তাহে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে কয়েকবার আটক করা হয়। তবে তাদের অল্প সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলবে।

এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। যন্তর মন্তর রাজধানীর অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল। সংগঠনটি এর আগেও সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল।

তবে শনিবার প্রশাসনের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে যন্তর মন্তরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়, বহু মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এক দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

এরপর অভিজিৎ দীপকে তার দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরে যান। অন্যদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তাদের বিক্ষোভ চলবে। তবে রবিবারের বিক্ষোভে এই দুই নেতা অংশ নেননি। তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পুলিশের কাছে আবেদন করবেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • সর্বশেষ