শিরোনাম
◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব ◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ ◈ বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ ঢাকা, পিছিয়েছে বাংলাদেশের সব বড় শহর! ◈ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ◈ সোলার প্যানেল নাকি মিনি উইন্ড টারবাইন, বাড়ির জন্য কোনটি বেশি লাভজনক? ◈ বৃহস্পতিবার মিরপুর-আগারগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে ◈ মে‌সি ম‌্যা‌জিক, গোল কর‌লেন করা‌লেন, জয়ের মঞ্চে মহাতারকার মহাবিদায়  ◈ টাকার বিনিময়ে কলরেকর্ড, লোকেশন ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণায় আস্ত BMW ও ৫ খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকের সন্ধান!

প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ দুপুর
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ভারতের গোয়েন্দা বিমান গোপনে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানে, ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ম্যাক ২.৪ গতির সেই রহস্যময় অভিযান!

এনডিটিভি: ১৯৯৭ সালের ২৭ মে। পাকিস্তানের আকাশসীমায় সেদিন ঢুকে পড়েছিল ভারতের একটি মিগ-২৫ গোয়েন্দা বিমান। প্রায় ৬৫ হাজার ৬১৭ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল বিমানটি। এতদিন ঘটনাটি নিয়ে নানা গল্প থাকলেও এবার সেই গোপন অভিযানের বিস্তারিত সামনে এসেছে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ট্রাইসনিকস স্কোয়াড্রনের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার প্রদীপ জস্বন্ত ঠাকুর জানিয়েছেন, ওই দিন একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করেছিল।

এনডিটিভির #CtrlAltDefence পডকাস্টে তিনি বলেন, বিমানটি প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ২.৪ ম্যাক গতিতে উড়েছিল।

ঘটনার দিন পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে পাকিস্তান এর জন্য ভারতীয় মিগ-২৫কে দায়ী করে। শব্দগুলো আসলে ছিল ‘সনিক বুম’—শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ন্ত বিমানের কারণে তৈরি হওয়া শকওয়েভের শব্দ।

Advertisement

পরদিন ভারত অবশ্য দাবি করে, কোনো ভারতীয় সামরিক বিমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেনি। তবে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে একটি মিগ-২৫ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীও বিমানটি শনাক্ত করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, সেটি প্রায় ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে যাওয়া একটি ভারতীয় মিগ-২৫। পরে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়। তবে ফক্সব্যাট ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।

ভারতের মিগ-২৫ ছিল মূলত গোয়েন্দা ও ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত বিমান। এর নাকে ছিল পাঁচটি ক্যামেরা। চারটি ক্যামেরা পাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ছবি তুলত এবং একটি ক্যামেরা সরাসরি নিচের দিকে তাক করে সঠিক স্থানাঙ্ক ধারণ করত। এসব ছবি সামরিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ ধরনের অভিযান ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। স্কোয়াড্রনের সবাই পর্যন্ত জানতেন না কখন বা কোথায় মিশন পরিচালিত হবে। ফোনে কোনো নির্দেশ দেওয়া হতো না। কমান্ডিং অফিসারকে সদর দপ্তরে ডেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য জানানো হতো। পরে নির্দিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব দেওয়া হতো।

১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও মিগ-২৫কে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সেবার অনেক নিচু উচ্চতায় উড়িয়ে পাকিস্তানি অবস্থানের ছবি তোলা হয়। এসব ছবি ভারতীয় স্ট্রাইক পাইলটদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

তবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মিগ-২৫-এর প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। অবশেষে ২০০৬ সালের ১ মে প্রায় ২৫ বছর সেবায় থাকার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের মিগ-২৫ বহর অবসর দেয়।

অর্থাৎ, পাকিস্তানের আকাশসীমায় সেই রহস্যময় উড্ডয়নের প্রায় তিন দশক পর অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার হলো—ঘটনাটি নিছক গুজব ছিল না। ভারতীয় একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।

তবে এ দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি পাকিস্তান। অনুবাদ: যুগান্তর