রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের রাতভর হামলায় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি পর্যটনকেন্দ্রে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার, কাস্পিয়ান সাগরের একটি তেল প্ল্যাটফর্ম এবং সামরিক রসদ বহনকারী জাহাজে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
রুশ-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের নিযুক্ত গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি শনিবার জানান, আজভ সাগর উপকূলের কিরিলিভকা অবকাশকেন্দ্রে চালানো হামলায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনা বা মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) জানিয়েছে, তাদের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের অংশ ফিলানোভস্কি তেল প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান লুকওয়েলের মালিকানাধীন।
এ ছাড়া সাইবেরিয়ার তিউমেন অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লাগে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ইউক্রেনের দাবি, এসব লক্ষ্যবস্তু তাদের সীমান্ত থেকে যথাক্রমে ৭০০ ও ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত, যা তাদের দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতার প্রমাণ।
ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে ‘পোর্ট ওলিয়া-২’ ও ‘বেগেই’ নামে দুটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের ভাষ্য, জাহাজ দুটি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ বিষয়ে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ কেন্দ্র, দূরপাল্লার ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণাগার এবং জ্বালানি, পরিবহন ও বন্দর অবকাঠামোতেও হামলার দাবি করেছে মস্কো। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নৌপথকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: রয়টার্স