শিরোনাম
◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে ◈ ট্রাম্পের 'পাগলামি' ও বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাকীত্ব  ◈ কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫ ◈ ঈদে জাতীয় ঈদগাহে থাকছেন তারেক রহমান, নিজ নিজ এলাকায় নামাজ পড়বেন মন্ত্রীরা

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৫০ রাত
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০২:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি, হরমুজ প্রণালি খুলতে নীতিগত সমঝোতা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে বা ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে এবং কখন সম্পন্ন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রোববার (২৪ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। প্রস্তাবিত খসড়াটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এই পরিকল্পনার মূল রূপরেখাটি সমর্থন করেছেন। তবে তাঁর স্বাক্ষরের জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো নথি চূড়ান্ত করা হয়নি। এদিকে, এই সমঝোতা বা পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


এ বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়—ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও, দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলোর এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে চলমান আলোচনা এবং বর্তমানে জারি থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরান কীভাবে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন বা হস্তান্তর করবে, সেই প্রক্রিয়াটিই এখন অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত বিষয়। এ ছাড়া, এই চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতকরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত রাখা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের শুল্ক (টোল) ছাড়াই উন্মুক্ত করা হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ দূর করবে এবং বাজারকে স্থিতিশীল করবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক মিত্র এই চুক্তির রূপরেখা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা এর চূড়ান্ত অনুমোদনে জটিলতা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য কিছু মন্তব্য করলেও, এই আলোচনা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি।

ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ওবামা আমলের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়ে একটি কঠোর ও ‘ভালো চুক্তি’ করতে বদ্ধপরিকর। ওবামা প্রশাসনের চুক্তিটি ট্রাম্প বাতিল করেছিলেন, কারণ সেখানে ইরানকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা (৩.৬৭ শতাংশ) পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সম্পূর্ণ পরমাণু মজুত ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে।

আপাতত এই চুক্তির বিনিময়ে ইরানের জব্দকৃত কোনো সম্পদ অবমুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান যদি তার পরমাণু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা করে, তবে সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। দুই দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে চুক্তির কিছু শব্দের রদবদল নিয়ে আলোচনা করছেন, যার কারণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়