শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:৫০ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বারমুডা দ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে টিকে আছে কীভাবে? গভীর ভূগর্ভে মিলল রহস্যের উত্তর

আটলান্টিক মহাসাগরের অন্যতম এক অমীমাংসিত ধাঁধায় যুগ যুগ ধরে বুঁদ হয়ে ছিলেন ভূতত্ত্ববিদরা। প্রশ্নটি ছিল, বারমুডার আগ্নেয়গিরিগুলো গত ৩ কোটি বছর ধরে শান্ত থাকা সত্ত্বেও এই দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠের এত উঁচুতে কীভাবে ঠিকে আছে? অবশেষে মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল এই রহস্যের কূলকিনারা পাওয়ার দাবি করেছেন, যার উত্তর লুকিয়ে আছে দ্বীপের অনেক গভীরে।

কার্নেগি সায়েন্সের সিসমোলজিস্ট উইলিয়াম ফ্রেজার এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির জেফরি পার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, বারমুডা দ্বীপটি এমন এক ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি।

সাধারণত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মতো আগ্নেয় দ্বীপগুলো ‘ম্যান্টল প্লাম’ বা পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত শিলার প্রবাহের ওপর গঠিত হয়। আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা শেষ হয়ে গেলে এবং টেকটোনিক প্লেটগুলো সরে গেলে এই ধরনের দ্বীপগুলো ধীরে ধীরে সমুদ্রের নিচে দেবে যাওয়ার কথা। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। এটি এখনও সমুদ্র তলদেশের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে সগর্বে টিকে আছে।

এই রহস্যের খোঁজে ফ্রেজার ও পার্ক বিশ্বজুড়ে বড় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূকম্পন তরঙ্গ ব্যবহার করেছেন। শব্দ যেমন বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তার তীব্রতা পরিবর্তন করে, এই তরঙ্গগুলোও পৃথিবীর ভেতরের উপাদানের ঘনত্ব অনুযায়ী গতি পরিবর্তন করে। বারমুডার একটি সিসমিক স্টেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দ্বীপের নিচে ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত একটি চিত্র তৈরি করেছেন।

সেখানেই ধরা পড়েছে চমকপ্রদ তথ্য। মহাসাগরীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি পাথুরে স্তর রয়েছে। এই শিলা স্তরটি চারপাশের অন্যান্য শিলার তুলনায় অনেক কম ঘন এবং অবিশ্বাস্যভাবে ভাসমান। অর্থাৎ, নিচে থেকে কোনও গরম প্রবাহ নয়, বরং এই হালকা শিলা স্তরটি একটি নৌকার মতো বারমুডাকে ভাসিয়ে রাখছে।

গবেষকদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে বারমুডার আগ্নেয়গিরি যখন সক্রিয় ছিল, তখন কার্বনসমৃদ্ধ গলিত শিলা ভূত্বকের নিচে জমা হয়ে শীতল হয়ে এই স্তরটি তৈরি করেছিল। এমনকি এই উপাদানগুলোর উৎস কয়েকশত কোটি বছর আগে প্যানজিয়া নামক অতিকায় মহাদেশ গঠনের সময়কারও হতে পারে।

উইলিয়াম ফ্রেজার এই আবিষ্কারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বারমুডা ভূতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য খুবই রোমাঞ্চকর জায়গা। কারণ এর গঠনশৈলী প্রথাগত কোনও মডেলের সঙ্গে মেলে না। এখানে আমরা এমন এক পুরু পাথুরে স্তর দেখেছি যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এর মানে হলো, পৃথিবীর অভ্যন্তরে এমন অনেক প্রক্রিয়া চলছে, যা আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।’

ফ্রেজার এখন বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপেও এমন কাঠামোর খোঁজ করছেন। তিনি দেখতে চান বারমুডাই কি পৃথিবীর একমাত্র ব্যতিক্রমী দ্বীপ, নাকি এমন রহস্যময় কাঠামো আরও কোথাও লুকিয়ে আছে।

সূত্র: এনডিটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়