শিরোনাম
◈ কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে তারেক রহমান, মহাসড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ভিড় ◈ ভাইরাল সেই ভিডিওতে ট্রাম্প কি সত্যিই চীনা প্রেসিডেন্টের নোটবুকে উঁকি দিয়েছিলেন? ◈ তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের ◈ মিড-ডে মিলে পচা খাবার বিতরণে কঠোর হুঁশিয়ারি, অনিয়মে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ ◈ স্বাভাবিকভাবে পাকা আম চেনার ৫টি উপায় গুলো জানুন কি কি ◈ মার্কিন গ্যাস স্টেশনের সিস্টেমে সাইবার হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে! ◈ হরমুজ বাইপাস করে তেল রপ্তানি দ্বিগুণ করতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত! ◈ সংক‌টে পড়‌তে যা‌চ্ছে ভার‌তের স‌ঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি? ◈ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস ◈ আইপিএল শে‌ষে চাকরি যাচ্ছে অধিনায়কের, ছাঁটাই হ‌চ্ছে পুরো কোচিং স্টাফ! 

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:৩৮ সকাল
আপডেট : ১৬ মে, ২০২৬, ০১:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১০ কোটি বছরের পুরোনো বিশাল ডাইনোসরের জীবাশ্ম মিলল থাইল্যান্ডে

থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা নতুন এক প্রজাতির বিশালাকার লম্বা-গলার ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন। ‘নাগাটাইটান’ (নাগাটাইটান) নামের এই ডাইনোসরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ২৭ টন ওজনের এই ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার (৮৮ ফুট)। অর্থাৎ এটি ছিল প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান ভারী। লম্বা গলা ও উদ্ভিদভোজী বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ছিল ‘সোরোপড’ (সোরোপড) পরিবারের সদস্য। এই পরিবারভুক্ত ডাইনোসরগুলোর মধ্যে ‘ডিপ্লোডোকাস’ (ডিপ্লোডোকাস) অন্যতম পরিচিত নাম।

এক দশক আগে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি পুকুরের পাশে এই জীবাশ্মগুলো খুঁজে পান গবেষকেরা। পরে যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী যৌথভাবে গবেষণা চালিয়ে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন। তাঁদের মতে, এই আবিষ্কার প্রাচীন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কীভাবে বিশালাকার ডাইনোসরের বিকাশ ঘটেছিল, সে বিষয়ে নতুন তথ্য দেবে।

ডাইনোসরটির পূর্ণ নাম রাখা হয়েছে নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস। এখানে “নাগা” শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককাহিনির সর্পকে বোঝায়, “টাইটান” এসেছে গ্রিক পুরাণের দেবতাদের নাম থেকে এবং “চাইয়াফুমেনসিস” অংশটি এসেছে থাইল্যান্ডের চাইয়াফুম প্রদেশের নাম থেকে, যেখানে জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে।

গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসরটি প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। অর্থাৎ এটি ‘টাইরানোসরাস রেক্স’ (টাইরানোসরাস রেক্স)–এরও প্রায় ৪ কোটি বছর আগের প্রাণী। আকারেও এটি টি-রেক্সের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক ছিলেন থিতিউউট সেথাপানিচসাকুল, যিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, গবেষকেরা নাগাটাইটানকে “থাইল্যান্ডের শেষ টাইটান” নামে উল্লেখ করেছেন, কারণ জীবাশ্মগুলো দেশের সবচেয়ে নবীন ডাইনোসরসমৃদ্ধ শিলা স্তরে পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, ডাইনোসরের যুগের শেষদিকে অঞ্চলটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

শৈশব থেকেই ডাইনোসরের প্রতি আগ্রহী সেথাপানিচসাকুল বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে তাঁর ছোটবেলার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে-নিজের হাতে একটি ডাইনোসরের নামকরণ করা।

থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ১৪টি ডাইনোসরের নামকরণ করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এশিয়ায় ডাইনোসরের জীবাশ্ম বৈচিত্র্যের দিক থেকে থাইল্যান্ড সম্ভবত তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, নাগাটাইটান এমন এক সময়ে পৃথিবীতে বাস করত, যখন বায়ুমণ্ডলে ‘কার্বন ডাই-অক্সাইড’ (কার্বন ডাই-অক্সাইড)-এর মাত্রা ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছিল। গবেষকেরা মনে করছেন, উষ্ণ জলবায়ু ডাইনোসরগুলোর খাদ্য উদ্ভিদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল, যা তাদের বিশাল দেহ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়